ক্লান্তিহীন, বিরামহীন জ্বলন্ত অগ্নিগিরির মতো চট্টগ্রামের জামালখান চত্বরে কাদের মোল্লা, নিজামী, গোলাম আযমসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে চলছে তরুণ প্রজন্মের বজ্রধ্বনি শ্লোগান। বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিশুরাও গতকাল বুধবার গণজাগরণে সমবেত হয়েছিল। সমাবেশে উদ্দীপ্ত হাজার হাজার তরুণের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে : ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই/যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা মেঘনা যমুনা। জয় বাংলা। মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার।
গণসঙ্গীতের সুরে উদ্বেলিত হয়ে উঠছে জামালখান গণজাগরণ মঞ্চ এলাকা। হাতে হাত রেখে পায়ে পায়ে নৃত্যের ছন্দে তরুণ-তরুণীরা নেচে নেচে গাইছে, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে/আমরা ক’জন নবীন মাঝি হাল ধরেছি/শক্ত করে রে...। গণজাগরণের অষ্টম দিনে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের আন্দোলনরত অগণিত তরুণ-তরুণী বসন্তের প্রথম দিনটিতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছে। তাদের প্রত্যয়দীপ্ত মিছিল শ্লোগান বাংলার মাটিতে আবার যেনো ফিরিয়ে এনেছে একাত্তরের রক্তাক্ত সংগ্রামের দিন।
জামালখান প্রেস ক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের দিকে গতকালও তরুণদের অসংখ্য খণ্ডখণ্ড মিছিল স্রোতের মতো আসতে থাকে। গতকাল এখানে মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান দিতে দিতে সমবেত হয় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের সবার দাবি, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ কর স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন কর। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই।
গণজাগরণ মঞ্চের পাশে গতকাল দেখা গেল তরিকত ফেডারেশনের একটি ব্যানার। সেখানে লেখা রয়েছে-ধর্মের মর্মবাণী বিকৃতকারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ কর।
সামপ্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরিফ চৌহান জানান, তারা ঢাকা শাহবাগের কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে সারাদেশের মতো সমন্বিত কর্মসূচি দিচ্ছেন। সেই অনুসারে আজ বৃহস্পতিবার রাজাকার আল বদরদের হাতে একাত্তরে শহীদ এবং স্বাধীনতা উত্তরকালে তাদের হাতে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হবে।
গণজাগরণ সমাবেশ এলাকা থেকে শিবির সন্দেহে ২ তরুণ আটক
চট্টগ্রামের জামালখান প্রেস ক্লাব চত্বর গণজাগরণ সমাবেশ এলাকা থেকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করা কালে ২ তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শিবির সন্দেহে ২ তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাবেশ এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সবাইকে মেটাল ডিটেকটার ও আটওয়ের মাধ্যমে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
