মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটা নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৪৯

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুরের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামে তিন ফসলি জমির উপর গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেছে বোরো ধানক্ষেত। এতে উপজেলার শতাধিক কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে।

কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের কৃষক ও প্রজেক্টের মালিক মো. বাদশা মিয়া অভিযোগ করেন দেওহাটা, মীর দেওহাটা, বহুরিয়া ও কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের তিন ফসলি জমির উপর কমপক্ষে ৩০-৩৫টি অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটার নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং প্রশাসনের অনুমোদন। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে এলাকার বোরো ধানক্ষেত, মৌসুমি ফসলের ক্ষেত, গাছপালা, বিভিন্ন ফলের গাছ এবং সবজি মরে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কৃষক মো. বাবু মিয়া ও খোরশেদ মিয়া অভিযোগ করেন, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের ৭০শতাংশ করে জমির ধান পুড়ে গেছে। তাদের মতো আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজ মিয়া ও আবু বকর একই অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করেন এএনবি-২ নামে একটি অবৈধ ইটভাটার কারণে তাদের জমির বোরো ধান পুড়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

এদিকে এএনবি-২ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহিম ও মো. রেজাউল করিম বলেন, তাদের ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকার কৃষকদের যদি বোরো ধান পুড়ে ক্ষতি হয়ে থাকে তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বোরো ধান পুড়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে বোরো ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং ভাটা মালিকদের সঙ্গে বসে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, কোর্ট বহুরিয়া গ্রামে ইটভাটার কারণে বোরো ধানক্ষেত পুড়ে চিটা হয়েছে খবর পেয়ে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে বসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে তিন ফসলি জমির উপর করা অবৈধ ইটাভাটাগুলো সরানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।