বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি বিদেশি ঋণের দিকে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫২
বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা ক্রমান্বয়ে বিদেশি ঋণের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। দেশীয় ব্যাংকগুলোর ঋণের উচ্চ সুদ ও পর্যাপ্ত ঋণ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের পছন্দ এখন বিদেশি ঋণ। এসব ঋণের অনুমোদনও মিলছে। বিশ্লেষকরা আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, এসব ঋণের সুদ আপাতত কম হলেও কার্যকর সুদের হার ভবিষ্যতে অনেক বেড়ে যাবে। কারণ বিদেশি মুদ্রায় নেয়া এসব ঋণ উদ্যোক্তারা ব্যবহার করবে টাকায়। পরে তা পরিশোধ করা হবে বিদেশি মুদ্রায়। অপরদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, যেসব প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়া হচ্ছে সেসব প্রকল্প থেকে উত্পাদিত পণ্য রপ্তানি করে বিদেশি মুদ্রা আসবে কী না তা বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে। আর তা না হলে দেশের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার দায় বাড়বে। গত বছরে অর্থাত্ ২০১২ সালে ১৪৯ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ নেয়া হয়েছে স্থানীয় মুদ্রায়, যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রায় ৭শ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ গ্রহণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মঞ্জুরিকৃত এসব ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিদেশি ঋণের সুদ আপাতত কম মনে হলেও কার্যকারী হার আরো বেড়ে যাবে। একজন বিনিয়োগকারী বিদেশ থেকে ৬ শতাংশ হারে ১০০ কোটি ডলার (৭৯ টাকা ১০ পয়সা প্রতিডলার হিসেবে) ঋণ গ্রহণ করলেও প্রতিবছর টাকার মান কমতে থাকবে। এই হারে ঋণের টাকা ডলারে পরিশোধ করায় সুদের হার দাঁড়াবে ১৩ শতাংশের ওপর। কেউ যদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেয় তাহলে ওই বিনিয়োগকারীর কার্যকর সুদের হার অনেক বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ দুদিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথম কারণ হচ্ছে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বিদেশি মুদ্রায়। এতে রিজার্ভের ওপর চাপ পড়বে। দ্বিতীয়ত বিদেশি উত্স থেকে ঋণ নেয়া হলে এতে মুদ্রা পাচারের আশংকা থেকে যায়। তিনি বলেন, দেশীয় ঋণের সুদের হার বেশি তা ঠিক। কিন্তু বিদেশি ঋণ নেয়া হলে তার সুদের হার যে কম হবে তা ঠিক নয়। কারণ প্রতিবছরই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে। বাড়তি টাকায় ডলার কিনে বিনিয়োগকারীকে ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে। জায়েদ বখতের মতে, সবকিছু বিবেচনায় বিদেশি ঋণ না নিলে ভালো হয়। তবে বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিয়ে একজন বিনিয়োগকারী যদি তা পরিশোধ করতে পারে তাহলে অসুবিধা থাকার কথা নয়। যেখানে দেশীয় ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার ১৮ শতাংশের ওপরে সেখানে বিনিয়োগকারীদের আর কি করার আছে। তিনি বলেন, যেসব বিনিয়োগকারী ডলারে ঋণ নেয় তারা রপ্তানির মাধ্যমে কিছু ডলার দেশেও নিয়ে আসে। সে বিবেচনায় বিদেশি ঋণ গ্রহণকে তিনি ইতিবাচক বলে মনে করেন। সম্প্রতি ১০ প্রকল্পে ৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এ সংক্রান্ত ঋণের বাছাই কমিটি।