জামায়াতকে সরকার নিষিদ্ধ করলেই নিবন্ধন বাতিল

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৮
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আইন মেনেই জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে কমিশন সহজেই দলটির নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। আইন অনুযায়ী জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। গতকাল প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসেবে উচ্চ আদালত অবহিত করায় এর নিবন্ধন বাতিল করা যায় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, উচ্চ আদালত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে যদি এমন কোনো দিক-নির্দেশনা দেন, তবে কমিশন অবশ্যই তা পালন করবে। সিইসি বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল করতে হলে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কমিশনকে যেতে হবে। গঠনতন্ত্রে অসংগতি থাকলে কমিশন চিঠি দিয়ে দলটিকে জানাবে। এটা লম্বা সময়ের ব্যাপার। কাজী রকিব বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের সংশোধনীর খসড়া করছে। এজন্য পুরো আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিং-এ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো ঃ জাবেদ আলী, ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো ঃ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭৮ সালে সামরিক শাসনের সময় জারি করা রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশের কোনো প্রয়োজন আছে কি-না তা পর্যালোচনা করা হয় গতকালকের বৈঠকে। শিগগিরই অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নিজেদের মতামত জানাবে কমিশন। এ অধ্যাদেশটি ১৯৭৬ সালের রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের আলোকেই জারি করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশনে এ অধ্যাদেশের কোনো প্রয়োগ নেই। ২০০৮ সালে এ অধ্যাদেশের বাইরেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিধান সংযুক্ত হয়েছে। এ বিধানের আলোকে নিবন্ধিত দল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এছাড়াও বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। কমিশনের আইন শাখাকে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের খসড়া পর্যালোচনা করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে গেছে। তবে পরে একটি পরিপত্র জারি করে ওইসব অধ্যাদেশের মধ্যে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয়গুলো বৈধ করা হয়। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট আইন রয়েছে ৩০টির বেশি।