সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল দুই পর্যায়ে সামরিক আইনে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো কার্যকর করতে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভুঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, উচ্চ আদালত পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পরবর্তীকালে এবং এইচএম এরশাদের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা অধ্যাদেশগুলো কার্যকরে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান দুটি অধ্যাদেশ জারি করেন। সংবিধান অনুযায়ী জারি করা কোনো অর্ডিন্যান্স পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই পাস করতে হয়। সেজন্য জাতীয় সংসদের গত ২৭ জানুয়ারির অধিবেশনে অর্ডিন্যান্স দুটি উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। এই রকম ১৭২টি অধ্যাদেশ রয়েছে। সংশোধনসহ অধ্যাদেশের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ হবে। এই বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পাস করা সময়সাপেক্ষ বিধায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দুটি বিল আকারে সংসদে আনার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সামরিক সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি কাজের ধারাবাহিকতার স্বার্থে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। আইন অনুযায়ী তা সংসদে উত্থাপিতও হয়। তিনি বলেন, এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে তা পাস হলে কার্যকারিতা বজায় থাকবে। এতে সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অধ্যাদেশ দুটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমব্রেলা ল’-এর মতো হবে। এটি মন্ত্রিসভা নীতিগত এবং ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, যে অধ্যাদেশগুলো যে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সে মন্ত্রণালয়গুলো তা পর্যালোচনা করবে। যদি কোনো অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা না থাকে তখন তা আর আইনে পরিণত করা হবে না। এই বিষয়টি নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয় বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রিসভার গতকালের বৈঠকে ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০১৩’ও অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভোটার তালিকায় নামের সংশোধনের জন্যই এই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন জন্মনিবন্ধন বা শিক্ষা সনদে যেভাবে নাম থাকবে, ভোটার তালিকায় সেভাবেই নাম লেখা হবে।
