ঘড়িতে তখন সময় সন্ধ্যা সাতটা। শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ কিছুক্ষণের জন্য ফিরিয়ে আনেন ১৯৬৯ সালের সেই উত্তাল দিন। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের তরুণদের আহ্বানে তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যরা একাত্মতা প্রকাশ করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে হূদয়ের আগুন মোমবাতির মাধ্যমে জ্বালিয়ে দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এ কর্মসূচির জন্য মাগরিবের নামাজের বিরতি দেন সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত। এরপর একে একে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জড়ো হন দুই শতাধিক সংসদ সদস্য। সকল সংসদ সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হয় মোমবাতি। ১৯৬৯ সালের তুখোড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্লোগান দেন ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা-মেঘনা- যমুনা/, তুমি কে/আমি কে/ বাঙালি বাঙালি।’ শ্লোগান তোলেন সংসদ সদস্যরা। শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে সংসদ ভবন এলাকা। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে কণ্ঠ মিলিয়ে ডেপুটি স্পিকারও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৯ সালে যে বাঙালি জাতি অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিলো দীর্ঘ ৪৩ বছর পর তারা আবারও জেগে উঠেছে। সে সময় তরুণরাই নেতৃত্বে ছিলো এবং বর্তমানে জেগে উঠেছে তরুণরাই। যখন তরুণরা জেগে ওঠে, তাদের পথ রুদ্ধ করার মতো কেউ থাকে না। জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো হবে।
মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি এ কর্মসূচির সাথে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
