সহজে বিশ্বাস করে একজন মানুষ নিজের সব কথা অন্যকে বলতে পারে না। আর বলতে না পারার ব্যথাটাও কিন্তু কম নয়। সাথি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। সব সময় হাসি-খুশি, হৈ-হুল্লোড় করতেই পছন্দ তার। তাই বলে সে কখনও পড়ায় ফাঁকি দেয় না। বাসার প্রত্যেকেই খুব আদর করে। কিন্তু বিপত্তি ঘটল তখনই, প্রথম পর্ব পরীক্ষায় রেজাল্ট কিছুটা খারাপ হওয়ার পর। বাবা-মা, হোম টিউটর সবাই খুব করে বকল। এ কারণে তার মনে চাপা ক্ষোভ সঞ্চার হতে শুরু করল। অথচ তা কাউকে প্রকাশও করতে পারছে না। এভাবে ধীরে ধীরে সে কিছুটা মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ল। পড়াতেও মন বসে না, কারও সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না, এমনকি ডাইনিংয়ে সবার সাথে খেতেও সংকোচ লাগে। এ-তো গেল সাথির সমস্যা। এবার চলুন হূদয়ের গল্পটা কী রকম তা শুনি। একটি ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট সে। তারই ক্লাসমেট শ্রাবণী। যাকে হূদয়ের অসম্ভব ভালো লাগে। অথচ সেই কথাটা তাকে গত ছয় মাসেও বলতে পারেনি। এমনকি বন্ধুদের কাউকে বিশ্বাস করে সে এ কথা বলবে বা তাদের সহযোগিতা নেবে, সেটাও হচ্ছে না। সব মিলিয়ে হূদয়ের মনের অবস্থা বেগতিক। প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতার মধ্যে কাটে তার। কিছুতেই মন বসাতে পারে না। দিন দিন যেন হূদয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। মনের লুকানো ব্যথা কাউকে বলতে না পারার বেদনা কতটুকু তা শুধু সে-ই জানে। সাথি ও হূদয়ের ঘটনা জেনে এতটুকু বোঝা গেল, তাদের প্রয়োজন কাউন্সিলিংয়ের। একজন কাউন্সিলর তাদের কথা মনোযোগ ও ধৈর্য সহকারে শুনলে এবং তাদের সেই অনুযায়ী পরামর্শ দিলে তারা নিজেদের মনের বিদ্যমান সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন না করলেই নয়। কে হবেন তাদের কাউন্সিলর? কাউন্সিলর হতে পারেন বাবা-মা, বড় ভাই-বোন, বন্ধু, শিক্ষক ও একজন মনোচিকিত্সক। যাদেরকে বিশ্বাস করে হূদয় বা সাথি নিজেদের মনের কথা বলতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে সমস্যা সমাধানে সত্ পরামর্শ পেতে পারে। এ-তো গেল একটি দিক। এবার কাউন্সিলিং বিষয়ে আরেকটি দিক আলোচনা করতে চাই। তা হচ্ছে প্রতিটি তরুণ-তরুণীর নিজের ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলিং করা উচিত। কেননা যারা সচেতন তারা সময় থাকতেই ক্যারিয়ার নির্বাচন করে। আজ থেকে দশ-পনের বছর আগে ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীদের মাঝে এক ধরনের হতাশা ছিল। কারণ তখন কাজের ক্ষেত্র আজকের মতো এত বিস্তৃত ছিল না। আজকের বাস্তবতায় একজন মেধাবী তরুণ অথবা তরুণী অনায়াসেই ক্যারিয়ার নির্বাচন করতে পারে। বড় হয়ে কী হতে চাও? অতীতে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তরে প্রায় সকলেই বলতেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার অথবা শিক্ষক, আর আজ এ ধরনের প্রশ্নে অনেকেই তাত্ক্ষণিক উত্তর দেন আমি বড় হয়ে সংগীত শিল্পী হবো অথবা টিভি মিডিয়ার সাংবাদিক। আবার কেউ কেউ অভিনয়কেও ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষকের পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনার অথবা কোরিওগ্রাফার হওয়ার ইচ্ছেও ব্যক্ত করেন অনেক তরুণ-তরুণী। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ক্যারিয়ার নির্বাচনের আগে সে সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজনের সাথে পরামর্শ করা। এতে ওই পেশা সম্পর্কে বিশদ জানা যাবে। আর একটি পেশার ভালো-মন্দ দিক জেনেই, তা ক্যারিয়ার হিসেবে নির্বাচন করা উত্তম।
ছবি দীপঙ্কর দীপু
