বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৪৩ হাজার একর লবণ মাঠে লবণ উত্পাদন শুরু হয়েছে। এবার মোটামুটি লবণের দাম ভাল থাকায় দেশের অন্যতম লবণ উত্পাদনকারী এলাকা বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৪০ হাজার লবণ চাষি ও সহস্রাধিক লবণ ব্যবসায়ী মহাখুশি।
গত ডিসেম্বর থেকে লবণ চাষিরা মাঠে নামায় এবার আগেভাগেই নতুন লবণ উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাঁশখালীর বাজারে নতুন উত্পাদিত লবণ প্রতি কেজি ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি মূল্যে লবণের এই দাম অর্ধেকেরও কম। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় মিল মালিক ও মহাজনরা কমদামে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কিনে তা চড়ামূল্যে বাজারজাত করছেন।
বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমে ৪৩ হাজার একর জমিতে লবণ উত্পাদনে নেমেছে ৪০ হাজার চাষি। এবছরও বাঁশখালীতে লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি লবণ উত্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল দেখা দেয়ায় চাষিরা নতুন উদ্যমে আগেভাগে লবণ উত্পাদনে নেমেছে। বিসিকের বাঁশখালী উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজম খান জানান, বাঁশখালী ও কক্সবাজারে দেশের চাহিদার চেয়ে ২ লাখ টন লবণ বেশি উত্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কয়েকজন লবণ চাষি জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণ মাত্র ১৬০-২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যদি সরকার লবণ আমদানি না করে তাহলে চাষিদের মুখে হাসি লেগেই থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা লবণ শিল্প সংশ্লিষ্টদের। তবে সরকার এই শিল্পের বিকাশ সাধনে ঋণ সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিলে সরাসরি চাষিরা উপকৃত হত। তাদের মহাজন কিংবা মিল মালিকদের কাছে জিম্মি হতে হতো না। তাদের মতে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উত্পাদনে খরচ বেশি পড়ায় চাষিদেরকে মিল মালিক ও মহাজনদের দ্বারস্থ হতে হয়। মিল মালিক ও মহাজন থেকে টাকা নিয়ে অধিকাংশ চাষি লবণ চাষ করছে লবণের অধিক মূল্য পাওয়ার জন্য। কারণ সনাতন পদ্ধতিতে উত্পাদিত কালো লবণ খরচের তুলনায় বিক্রি হয় কম দামে।
পুঁইছড়ির লবণ চাষি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উত্পাদন সম্ভাবনা থাকলেও সিন্ডিকেট এবং কয়েক মিল মালিকদের ভুল তথ্যে সরকার বার বার পার্শ্ববর্তী ভারত ও মিয়ানমার থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে এই শিল্পের বারোটা বাজাচ্ছে। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী জানান, এ বছর লবণ উত্পাদন বেশ ভাল হতে পারে। লবণের মূল্য ভাল থাকায় চাষিরা এবার উত্সাহ নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি দেশীয় লবণশিল্প রক্ষায় লবণ আমদানির বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্যও আহবান জানান। এলাকার সাধারণ লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা এই শিল্পটি রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
