একক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার নয়াপল্টনে অনুষ্ঠেয় সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটানোর সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। শাহবাগের প্রজন্ম চত্ব্বরকে ঘিরে গড়ে ওঠা গণজাগরণের পাল্টা কোনো শো-ডাউন হিসেবে না হলেও কার্যত এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই কাল গণজমায়েত ঘটাতে চান দলের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া অনেকটা হারিয়ে যেতে বসা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার ইস্যুটিকে ফের সামনে নিয়ে আসাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গত ১১ দিন ধরে চলা আন্দোলন ও নতুন প্রজন্মের জাগরণের পর এটিই বিরোধী দলের বড় কর্মসূচি।
সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসন ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আগামীকাল বিকালে আমরা সমাবেশ করবো। সমাবেশে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। এই সমাবেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে, নির্দলীয় সরকারের দাবি থেকে জনগণ একচুলও সরেনি। সরকার যতোই চেষ্টা করুক তারা তাদের ‘অপকর্ম’ ধামাচাপা দিতে পারবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহবাগের আন্দোলন কিংবা নতুন প্রজন্মের দাবির সঙ্গে বিএনপির কোনো ভিন্ন মত নেই। তাদের আবেগ, দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলন দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। এখানেই আমাদের আপত্তি।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে দেশের তরুণ সমাজ সোচ্চার হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। জনমনে যাতে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে আপাতত ১৮ দলীয় জোটগত কোনো কর্মসূচি পালন করা থেকে বিরত থাকবে দলটি। বিশেষ করে জামায়াতকে আপাতত নিরাপদ দূরত্বে রাখতেই এই কৌশল। পাশাপাশি নিজস্ব স্বকীয়তায় একক শক্তিও দেখাতে চায় দলটি। এ কারণে ১৮ দলের পূর্বঘোষিত কয়েকটি কর্মসূচি ইতোমধ্যে স্থগিতও করেছে বিএনপি।
তবে এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৮ দলীয় জোটের ভাঙ্গন নিয়ে গণমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, ১৮ দল ভাঙ্গেনি, এর ঐক্য অটুট আছে। আগামীতে এ জোটকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি বলেন, সরকারের পতনের জন্য এবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য করতে হবে। কারণ বিএনপির দিকে মানুষ তাকিয়ে আছে।
রবিবারের সমাবেশকে সফল করতে গতকাল শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে যৌথসভা করেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগরীর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা থেকে সমাবেশে মিছিল আনতে মহানগর নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাপক লোক সমাগম ঘটাতে প্রয়োজনে ঢাকার আশ-পাশের স্থানগুলো থেকেও কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সভা থেকে।
আওয়ামী লীগ তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে : ফখরুল
গতকাল ঢাকা মহানগর বিএনপির যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কেউ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য সরকার পুলিশ-র্যাব দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়িয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে। কয়েকদিন ধরে পুলিশের আচরণে মনে হয় আমরা ফিলিস্তিন বা পাকিস্তানে বসবাস করছি। দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। আগামীতে দেশপ্রেমিক শক্তি না আধিপত্যবাদী শক্তি জয়লাভ করবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে সরকারের ব্যর্থতায় জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এ সরকারকে আর দরকার নেই। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশ, র্যাব আর শত শত সিসি ক্যামেরা দিয়ে অনেক কিছু করা যায়। কিন্তু এরা যখন নীরব হয়ে যাবে তখন জনগণের বিজয় হবে।
আওয়ামী লীগের নেতারা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ থাকবে না। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেননের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, নিজেরা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে বিএনপিকে পবিত্র হতে বলছেন।
