রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখন বাণিজ্যিক কেন্দ্র!

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২২:৩৫

প্রতি ঘরেই একটি করে দোকান। আছে মোবাইল ফোন, ইলেক্ট্রনিক্স, কাপড়, স্বর্ণের দোকান, ডিপার্টমেন্টাল

স্টোর। ওষুধের দোকানই রয়েছে পাঁচ শতাধিক!

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

মিয়ানমারের সৈন্যদের অত্যাচার, নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তাদের পালিয়ে আসার খবর বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করে। মানবতার সেবায় এগিয়ে আসে বিশ্বের অনেক দেশ। বর্তমানে টেকনাফ উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প রয়েছে ৩০টির মতো। নারী-পুরুষ মিলে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে ১১ লাখ রোহিঙ্গা, যেখানে উখিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা ২ লাখের কিছু বেশি। এমতাবস্থায় তাদের (রোহিঙ্গা) দল ভারী হওয়ায় দাপটের  সঙ্গে চলে তারা। প্রথম দিকে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতা নিলেও এখন আর তাদের সহযোগিতার তেমন প্রয়োজন হয় না।

শুক্রবার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা বস্তির প্রতিটি ঘরেই রয়েছে একটি করে দোকান। আছে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক্স, কাপড়, স্বর্ণের দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ হরেক রকম পণ্যের দোকান। ওষুধের দোকানই রয়েছে পাঁচ শতাধিক।  দোকানদারদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সি তরুণ। মালামালে দোকান ভর্তি। অনেক দোকানে কয়েক লাখ টাকার মালামালও তোলা হয়েছে। দোকানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও মালামাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। বেচা-বিক্রিও ভালো। দিনশেষে এক একটি দোকানে বিক্রি হয় কয়েক হাজার টাকার মালামাল। সেই হিসাবে দৈনিক তাদের লাখ লাখ টাকার ব্যবসা হয়। ফলে আদিকাল থেকে ব্যবসা করে আসা টেকনাফ উখিয়ার অনেক ব্যবসায়ী পড়েছেন বিপাকে। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিয়েছেন। ভবিষ্যত্ অন্ধকার দেখছেন তারা।  

বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পে কথা হয় আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশে এসেছেন ২০১৮ সালের ফ্রেরুয়ারির দিকে। তার বাড়ি মিয়ানমারের মংডুতে। আবদুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের মতো ব্যবসা করি। আমরা কষ্ট করতে পারি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে অবৈধ বলতে কিছু নেই। দৈনিক চার হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে কথা হয় মহিলা ব্যবসায়ী কামরুন নাহারের সঙ্গে। তার দোকানে আচার, চকলেট, চিপস, বিস্কুট, চিনি, চা-পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল রয়েছে। তিনি জানান, তার দৈনিক ৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়।

উখিয়ার বাজারের কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, রোহিঙ্গা আসার পর থেকে আগের মতো এখন আর ব্যবসা নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী রতন কান্তি দে জানান, রোহিঙ্গারা আমাদের চাইতে কম দামে মালামাল বিক্রি করায় খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন রোহিঙ্গা বাজারমুখি হয়ে গেছে। এমনকি সাধারণ ক্রেতারাও রোহিঙ্গা মার্কেট থেকে বাজার করছে।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মোবাইল ফোন, স্বর্ণের দোকান, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানসহ যে কোনো ধরনের বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশ রয়েছে। অচিরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।  

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেভাবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন হচ্ছে তা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।