হঠাত্ করেই যেন জনপ্রিয় হয়ে উঠল শর্ট ফিল্মগুলো। ইউটিউব খুলে একটু সার্চ দিলেই পাওয়া যায় হাজারো স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমা। সিনেমা যে শুধু দেখার নয়, বোঝার নয় বরং অনুভব করার সেটা বোঝা যায় কিম কি দুকের সিনেমা দেখলে। সাউথ কোরিয়ান এই সিনেমা পরিচালক তার মনের ভাব শব্দে প্রকাশ না করে ইমেজের মাধ্যমে প্রকাশ করার যে প্রতিভা দেখিয়েছেন, তা বিস্ময়কর, অসাধারণ এবং নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ১৯৯৬ সালে নির্মিত সিনেমা ‘ক্রোকোডাইল’। সিনেমার প্রধান চরিত্র পুরুষটি হান নদীর তীরে বাস করে এবং একদিন আত্মহত্যা থেকে বাঁচায় এক নারীকে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকেই ধর্ষণ প্রচেষ্টা থেকে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক অস্বাভাবিক সম্পর্ক। খুব অল্প বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি কিম কি দুকের চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছিল। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল, এই চার বছর প্যারিসে নিজের ছবি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছিলেন কিম কি দুক। তারপর নিজ দেশে ফিরে শুরু করেন চিত্রনাট্য লেখা এবং ২০০৫ সালে জিতে নেন কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এক প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার। পরের বছর ‘ক্রোকোডাইল’ সিনেমার মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন তা এখনও অব্যাহত আছে। ২০০৮ সালের ‘ড্রিম’ সিনেমার মধ্য দিয়ে তার নির্মিত সিনেমার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। ‘স্প্রিং সামার ফল উইন্টার অ্যান্ড স্প্রিং’ সিনেমার মাধ্যমে কিম কি দুক বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করলেও এটা কিন্তু তার আলোচিত সিনেমার প্রথমটি নয়। ২০০০ সালে কিম নির্মাণ করেন ‘দ্য আইল’। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছিল। কিম কি দুকের সিনেমা স্টাইল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এই সিনেমাটি তাকে কুখ্যাত করতেও বেশ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ কিছু অসহ্য এবং আপত্তিকর দৃশ্যের কারণে কিছু কিছু দর্শক থিয়েটার হল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, কিছু দর্শক বমি করে ভাসিয়েছিলেন। হত্যার আসামি এক ব্যক্তি আশ্রয় গ্রহণ করেন একটি ফিশিং রিসোর্টে যার মালিক হলো একটি মেয়ে। নির্বাক চরিত্রের এই মেয়েটি বেশ জেদী, নিজের চাওয়া পূরণে তার সামনে কোনো বাধাই বাধা নয়। পলাতক আসামিকে ভালোবেসে ফেলে মেয়েটি আর তাই তাকে দু’বার বাঁচায়। আবার এই মেয়েটিই ভালোবাসার কারণে হত্যা করে, হত্যা করে তার দালালটিকেও। কিন্তু পলাতক আসামি যখন তার কাছ থেকেই পালাতে চায় তখন বেশ অদ্ভুত এক উপায়ে তাকে ফিরে আসতে বাধ্য করে মেয়েটি। তারপর তাদের দুজনের মধ্যে যে সম্পর্কটি গড়ে উঠে তা খুব স্বাভাবিকই বটে। ‘দ্য আইল’ সিনেমার কাহিনী এ রকম সাধারণ হলেও পরিচালনার গুণে তা হয়ে উঠেছে বেশ আকর্ষণীয়।
