‘আশ্রয়’ই ওদের ভরসা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫০
২০০৮ সালের ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’-এ সব বন্ধুরা যখন রাত্রি উদযাপনে ব্যস্ত তখন কিছু তরুণ-তরুণী রাতভর ভাবল নতুন বছরের শিশুদের জন্য কিছু করার কথা। অবহেলিত এবং শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণের জন্য এই তরুণ-তরুণীদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে আশ্রয়। ‘আশ্রয়’ নামটি ছোট, কিন্তু যে স্বপ্নে বুনিয়াদ সেটি অনেক বড়। যাদের স্বপ্ন সমাজের প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে তার মৌলিক অধিকার আদায়ে পাশে এসে দাঁড়ানো, তাদের মুখেও একটু হাসি ফুটানো। সমাজের প্রতিটি শিশুশিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক, এটাই আশ্রয়ের উদ্দেশ্য। কিছু উদ্যোমী তরুণ-তরুণীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই বেসরকারি সমাজ কল্যাণমূলক সংস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট-(পিএইচডি) পেইন্টিং হোপ্স এন্ড ড্রিমস। সমগ্র ঢাকা শহর থেকে বাছাই করা মেধাবী পথশিশুর নিয়মিত পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করা এবং এদেরকে সমাজের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কশপের আয়োজন করাই এই প্রজেক্টের মূল পরিকল্পনা। এই প্রজেক্টের ফলে যে পথশিশুরা শিক্ষিত হবে তারা নিজেরাও মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াল থাবা থেকে অন্য পথশিশুদের বাঁচাতে কাজ করবে বলেই আশ্রয়ের বিশ্বাস। শুরু থেকে এ পর্যন্ত আশ্রয় শিশুদের জন্য যে সব কাজ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ফল উতসব, হেলথ ক্যাম্প, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন, এছাড়া দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বর্তমানে আশ্রয়ের দুটি স্কুল আছে, যেগুলোতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনা বেতনে এবং বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ পেয়ে পড়াশুনা করছে। আশ্রয়ের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ স্বপ্ন নিয়ে জানাচ্ছেন সংগঠনের তিন তরুণী সংগঠক। মনিজা ইসলাম দিবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংগঠনের সাথে কাজ করে আমার মনে হয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই সমাজের প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা আছে। বিশেষকরে শিশুদের ক্ষেত্রে। কারণ তারা আমাদের ভবিষ্যত্ বিনির্মাণ করবে। অথচ আমাদের দেশের অনেক শিশুই তিন বেলা খেতে পায় না। এই চিন্তা থেকেই আমাদের কাজ করা। আমরা চাই শিশুরা ঠিকমত বেঁচে থাকবে, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে। আমাদের স্কুলগুলোতে এমন অনেক শিশু আছে যারা যথেষ্ট মেধাবী। যদি একদিন আমাদের দ্বারা এদের একজনও দেশের জন্য কিছু করতে পারে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। অনামিকা নাগ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ একটি শিশু একটি জাতির ভবিষ্যত্, তাই আশ্রয়ের লক্ষ্য এমন কিছু মানুষ তৈরি করা যারা ভবিষতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আর আশ্রয়ে কাজ করাটা আমার জন্য অনেক বেশি আনন্দের। যে কোন অনুষ্ঠানের সময় বা ক্লাশে শিশুদের পবিত্র মুখগুলো দেখতে অনেক ভালো লাগে। আর ওরাও আমাদের এত আপন ভাবে যে, তাদের সবগুলো মজার দিন বা কষ্টের দিনগুলোর কাহিনী আমাদের সাথে অংশ নেয়। সাবরিনা সাবা মুমু বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ আমরা চাই অবহেলিত শিশুগুলো যাদের মেধা আছে কিন্তু অর্থের জন্য পড়ার সুযোগ পায় না তাদেরকে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে। অনেক ভাল লাগে যখন দেখি আমাদের জন্য একটা ঝরে পড়া বা অবহেলিত শিশু তার নাম, নিজ মনের কথাগুলো লিখতে পারে। আশ্রয় যেন সমাজের অবহেলিত শিশুদের সত্যিই আশ্রয় হয় এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।