দেশে চাহিদার তুলনায় চালের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ১৩ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা দূর হয়েছে। ফলে চলতি অর্থ বছরে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে না।
দুইদিন বিরতির পর গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে খাদ্য মন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক সংসদকে এ কথা জানান। স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। গতকাল ছিলো চলতি অধিবেশনের চৌদ্দতম কার্যদিবস। মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারির হিসাবে বর্তমানে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ১০ হাজার টন। এরমধ্যে চাল হচ্ছে ১০ লাখ ৪৫ হাজার টন এবং দুই লাখ ৫৫ হাজার টন গম।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর দেশে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত চাল উত্পাদন হয়েছে। অর্থাত্ চাহিদার তুলনায় চালের যোগান বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ প্রেক্ষিতে সুগন্ধি চালসহ বিশেষায়িত চাল সীমিত পরিসরে বিশ্ব বাজারে রফতানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দেশ অতিরিক্ত দুর্যোগ প্রবণ হওয়ায় দুর্যোগকালীন জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকার অন্যান্য জাতের চাল রফতানির বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই বিষয়ে বেগম মাহফুজা মণ্ডলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিদেশ থেকে কোন চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।
মো. শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশে গুদামের ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ টনে উন্নীত হবে। আর তখন চালের পাশাপাশি কৃষকদের নিকট থেকে ধান কেনার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোন আশংকা নেই। সরকার কর্তৃক উত্পাদন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি ও কৃষকবান্ধব বিভিন্ন নীতি এবং কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে কৃষি তথা খাদ্য উত্পাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আমদানিসূত্রে নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ টন চাল ও চার লাখ ১০ হাজার টন গম আমদানি করেছে। তবে ভারত থেকে কোন চাল বা গম সাহায্য হিসাবে পাওয়া যায়নি।
সাধনা হালদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সরকার তিন লাখ টন আমন চাল কেনার জন্য অভিযান শুরু করেছে। এরমধ্যে প্রতি কেজি ২৬ টাকা করে আড়াই লাখ টন সিদ্ধ এবং ২৫ টাকা ৫০ পয়সা কেজি করে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এক লাখ ৩৭ হাজার ২১৭ টন চাল কেনা হয়েছে। যার মধ্যে আপত চাল হচ্ছে ১৭ হাজার ৪০৫ টন। অবশিষ্ট চাল সিদ্ধ। নাছিমুল আলম চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ৫০ হাজার টন গম কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর এই গম প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হবে।
