জামায়াতের হরতাল আজ, প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:০৫
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চার নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক আটকের প্রতিবাদে আজ সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ হরতাল আহ্বান করা হয়। এদিকে জামায়াতের আজকের হরতালকে বেআইনি উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এমপি। রাজপথে নেমে জামায়াতকে রুখে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলন-কারীরা। এছাড়া হরতাল প্রত্যাখ্যান করে সারাদেশে দোকানপাট খোলা রাখার এবং সড়কে যানবাহন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতিগুলো। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘ধর্মীয় মোড়কে দেশের মাটিতে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। জামায়াতের ডাকা বেআইনি হরতাল প্রতিহত করা হবে।’ ব্লগার রাজীব হত্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’ সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের আল্পনা প্লাজায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির জরুরি সভায় জামায়াতের হরতাল প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া সভায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের পাশাপাশি ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার খুন হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ রাজীবের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে শাহবাগ চত্বরকে ‘রাজীব চত্বর’ ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন। সভায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোখলেছুর রহমান, মহাসচিব এসএ কাদের কিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সমিতির মহাসচিব কাদের কিরন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অযৌক্তিক দাবিতে জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতাল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। সেই সঙ্গে সারাদেশে দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য দোকান মালিক সমিতিগুলোকেও এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার সব জায়গায় দোকান খোলা থাকবে।’ দোকান খোলা রাখতে প্রশাসনের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের কিরন বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের হামলা ঠেকাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোন প্রয়োজন নেই। এর জন্য আমরা নিজেরাই যথেষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বরং ক্রেতাদের বলবো মার্কেটে আসুন, আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব মার্কেট কর্তৃপক্ষের।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ‘দোকান মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এটা করতেই পারেন।’ এদিকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আজ সারাদেশে গণপরিবহন তথা বাস-ট্রাক-মিনিবাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কেন্দ্রিয় মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, শাহবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশের জন্যই আমাদের এ কর্মসূচি। তিনি সারাদেশের পরিবহন মালিকদের আজ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য আহ্বান জানান। দোকানপাট খোলা রাখতে রংপুরে মাইকিং রংপুর প্রতিনিধি জানান, আজকের হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে রংপুরের ব্যবসায়ী সমাজ, জাগরণী মঞ্চের আন্দোলনকারী ও ১৪ দলের নেতারা। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই হরতালে দোকানপাট খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে জেলা-উপজেলাসহ নগরীতে মাইকিং করা হয়েছে! রংপুর চেম্বারে প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু জানান, হরতালে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করেছেন। ১৪ দলের জেলা সমন্বয়ক আবুল মনসুর আহমেদ জানান, হরতালের দিন ১৪ দলের নেতাকর্মীরা দিনভর মাঠে থাকবেন। কাউকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম বলেন, ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলা রাখলে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।