গতকাল জামায়াতের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিভিন্ন আইনজীবীর মতামত উপেক্ষা করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটে আওয়ামী মহাজোট সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি দলের বিচারের উদ্দেশ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশকে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়ার সরকারি চক্রান্ত করেছে। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিবৃতিতে বলা হয়,মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালের ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট তৃতীয় বারের মত সংশোধন করে সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এক জঘন্য নজির স্থাপন করল। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতীয় সংসদে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে ১৯৭৩ সালের আইনটি সংশোধন না করার ব্যাপারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। তারা বলেছিল ‘আইন সংশোধন বিচার প্রক্রিয়াকে কলংকিত করবে’। কিন্তু সরকার তাদের পছন্দের রায় নিশ্চিত করার জন্য ঐ সব মতামতের তোয়াক্কা না করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থাত্ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আইন সংশোধন করে। সরকার জাতীয় সংসদে দলের বিচারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নজিরবিহীন। দলের বিচারের নামে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করাই সরকারের আসল উদ্দেশ্য। এ আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকে আরো বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ করার ব্যবস্থা করেছে। রাজনৈতিক বিষয়সমূহ আদালতে টেনে নিয়ে বিচারক ও জনগণকে মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে সরকার। সরকারের এ পদক্ষেপ দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবে।
