একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছে মহানগরী ও জেলার সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকাল ১০টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তারা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেন।
এদিকে ব্লগার রাজীব হায়দারের হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চ আরো প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানান তারা। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মুহুর্মুহু শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে প্রেসক্লাব চত্বর। উদীচীর শিল্পীদের সম্মিলিত গণসঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। গানের পাশাপাশি আবৃত্তিকাররাও তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। গান ও আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আকাশ কাঁপানো স্লোগানে কণ্ঠ মেলান সমবেত জনতা।
তারা রাজিব হত্যার প্রতিবাদে আজ সোমবার জামায়াত-শিবির আহূত হরতাল প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেন। গণজাগরণ মঞ্চে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্লগার রাজীব হত্যায় আন্দোলন আরো জোরালো হবে। জামায়াত-শিবিরসহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান।
