সুনামগঞ্জের দোয়ারায় পাখির অঘোষিত অভয়াশ্রম

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সদরের কামারপট্টি ও আশেপাশের এলাকা পাখ-পাখালির অঘোষিত অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। পাখ-পাখালির মধুর কলকাকলীতে প্রতিদিন এখানে মানুষের ঘুম ভাঙ্গে। দিনভর শোনা যায় পাখির মিষ্টি-মধুর সুর। অঞ্চলটি পাখ-পাখালির প্রাকৃতিক চিড়িয়াখানা। পাখির প্রতি ভালবাসা-প্রেম এখানকার মানুষের মধ্যে। মানুষের ভালবাসায় পাখিও ভীতি ভুলে নির্ভয়ে এখানে ঝিলে ও গাছে-গাছে বসবাস করছে। নেই পাখি শিকারীদের উপদ্রব। মানুষ ও পাখির ‘বন্ধুত্বে’ সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম পরিবেশ। দোয়ারাবাজারের পাখি ও পাখিপ্রেমী মানুষের এমন ‘বন্ধুত্বে’র কথা প্রায় চার যুগ দেশবাসীর অগোচরেই রয়ে গেছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের কামারপট্টি সংলগ্ন এলাকাটি ঝিলের পাড়ে অবস্থিত। বৃক্ষরাজির ঘন সবুজে আচ্ছাদিত এ এলাকা প্রকৃতির সৌন্দর্য বিকশিত করে যাচ্ছে। সবুজের ফাঁকে সাদা ও সোনালী বলাকার অবাধ বিচরণ আরো মোহনীয় করে তুলেছে পরিবেশ। এ ঝিলকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে দেশে হারিয়ে যাওয়া ও বিরল প্রজাতির পাখ-পাখালির মিলনমেলা। ঘনবসতির কোলাহলমুক্ত দোয়ারাবাজারে পাখ-পাখালির অঘোষিত অভয়াশ্রম বিস্ময়কর। দিনভর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে অবিরাম আসা-যাওয়া দৃশ্যমান হলেও বিকাল হতেই পুরো এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে। চারদিক থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, সরালিসহ বিভিন্ন অতিথি পাখির আগমন ঘটতে থাকলে তখন এখানে এক অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া দোয়েল, শ্যামা, ঘুঘু, কোকিল, বুলবুলি, ময়না, টিয়া, বাবুই, টুনটুনি, কাকাতুয়া, চড়ুইসহ অসংখ্য দেশীয় জাতের পাখিও এখানে নিরাপদে বিচরণ করে যাচ্ছে। প্রকৃতির অলংকার এসব পাখিকে কোনরকম বিরক্ত না করায় তারা প্রায় চারযুগ ধরে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে এখানে স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে বাস করে যাচ্ছে। কোন পাখি নতুন করে নীড় তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কেউ ব্যস্ত নীড়ে থাকা ছানাদের জন্য সংগ্রহ করা খাবার মুখে তুলে দিতে। পাখিদের রক্ষা ও নিরাপত্তায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এ অঞ্চল পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পাখিদের দেখাশোনা ও আদরের কারণে এখানে অনেকেই কিছু না কিছু ক্ষতির শিকারও হচ্ছেন। পাখিপ্রেমী কেউ কেউ নিজের বাড়ির আঙ্গিনার গাছ কেটে দালান তুলতে পারছেন না পাখির নীড় ভেঙ্গে যাবে বলে। বিরল এ পরিবেশ ধরে রাখতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।