ফিটনেস

শুরু করুন ইয়োগা দিয়ে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১১
শরীর ও মনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইয়োগা বা যোগাসনের কোনো বিকল্প নেই। যোগাসন দিয়ে নানা অসুখ তো বটেই, মানসিক সমস্যাও দূর করা সম্ভব। সুতরাং আজ থেকেই শুরু করুন। আর আবিষ্কার করুন নিজের শরীর ও মনের সুস্থতার নতুন মন্ত্র। সুস্থতার এই মন্ত্র নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ যোগাসন অভ্যাসের বিষয়। প্রথম দিকে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে বিরক্তিকর মনে হবে। কিন্তু কয়েকদিন গেলে দেখবেন ভালোই লাগছে। যোগাসনের এই সু-অভ্যাস একবার গড়ে তুলতে পারলেই দেখবেন যে সহজে মাথা গরম হচ্ছে না, রাতে ভালো ঘুম হচ্ছে। ইচ্ছেমতো খেতে পারছেন। এগুলো তো নিশ্চয়ই জীবনের বাড়তি পাওনা। আসলে যোগ তো শুধুমাত্র ব্যায়াম নয়, যোগ কথার আসল অর্থ হলো চেতনা। যোগাসন এমনই একটি বিজ্ঞান যা শরীর, মন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এমনকি প্রচণ্ড স্ট্রেসের মধ্যে এই নিয়ন্ত্রণটা বজায় রাখে। আজকের এই দিনে সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা রকম টেনশন, হতাশা দেখা দেয়। আর এখানেই যোগাসনের প্লাস পয়েন্ট। যোগাসন দিয়ে নানা অসুখ তো বটেই মানসিক সমস্যাও দূর করা যায়। যোগাসন শুধুমাত্র শরীরে ব্যায়ামের ওপর জোর দেয় না। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেখায়। প্রতিদিন জীবনযাপনে আমরা যদি নিজেদের আবেগকে সঠিক পথে চালিত করতে পারি, তবেই জীবন বোধকে অনেক সহজ মনে হবে। যোগাসন শরীর ও মনকে সঠিক নিয়ন্ত্রণে বজায় রাখে। ফলে দৃষ্টিভঙ্গিও অনেক পরিণত হয়ে ওঠে। যোগাসনের উপকারিতা  শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় সাধারণত ফুসফুস মাত্র দু’তিন ভাগ প্রসারিত হয়। কিন্তু নিয়মিত যোগাসন করলে ফুসফুস প্রায় ১০০ ভাগ প্রসারিত হয়। এতে শরীরে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে।  যোগাসনের ফলে নার্ভাস সিস্টেম ও সাকুলেটরি সিস্টেমের কর্মক্ষমতাও অনেকখানি বেড়ে যায়। ফলে ফুসফুস ও হূদযন্ত্রের কার্যকর ক্ষমতাও বাড়ে।  স্ট্রেস কাটাতে যোগাসনের বিকল্প নেই। স্ট্রেস থেকে নিস্তার পেতে জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে। যোগাসন এমনই একক মন্ত্র যা জীবনকে নতুনভাবে চিনতে শেখায়।  যোগাসন এনার্জি লেভেল বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। যাদের এক জায়গায় বসে কাজ করতে হয় তারা খুব অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। তাই অফিসে আসার আগে যোগাসন করলে মুড ভালো থাকবে। অথবা মুড খারাপ থাকলে বাড়ি ফিরে যোগাসন করুন। দেখবেন মুড ভালো হয়ে গেছে।  ডিপ্রেসন ভুগলে যোগাসন করুন। যোগাসনের ইতিবাচক মনোভাব আপনাকে নতুন উদ্যমে জোগাবে। যেভাবে শুরু করবেন যোগাসন শুরু করার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। পাঁচ বছর বয়স থেকেই যোগাসন শুরু করা যায়। টিভিতে, বইয়ে নানা রকম যোগাসন দেখে ভয় পাবেন না। অনেক সময় নানা ধরনের যোগাসন দেখলে মনে হয়, কোনটা করা ঠিক হবে আর কোনটা নয়। কনফিউশন হলে প্রথমে কোনো এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন। যোগাসন শুরু করার সময় প্রথমেই খুব বেশি শক্ত বা কঠিন আসল ট্রাই করার দরকার নেই। কিছু বেসিক আসন দিয়ে শুরু করুন। পেলভিক টিল্টস যখন হাতে সময় খুব কম, এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টা যোগাসন করার সময় নেই, তখন পেলভিক টিল্টস খুব কাজে আসতে পারে। এতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। প্রথমে সোজা হয়ে শুরু পড়ুন। আস্তে আস্তে হাঁটু থেকে পা ভাঁজ করুন। দু’হাত দু’পাশে রাখুন। এবার আস্তে আস্তে শ্বাস টেনে ধরুন। এতে পেটের মাসলের ওপর চাপ পড়বে। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ থেকে আবার নিঃশ্বাস বাইরে ছাড়ুন। এই স্ট্রেচের ফলে পিঠ ও কোমরে ব্যথা থাকলে, তা দূর হয়। ১০ থেকে ১২ বার এই আসনটি রিপিট করুন। কার্পস পোজ সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। দু’পায়ের মধ্যে ফাঁক রাখবেন। হাতে শরীরের দু’পাশে রাখুন। চোখ বন্ধ করুন। আস্তে আস্তে ডান দিক থেকে বাঁদিকে মাথা ঘোরান। এমনভাবে মাথা ঘোরাবেন যাতে কানের লতি মাটি ছুঁয়ে যায়। এইভাবে কয়েকবার মাথা এক পাশ থেকে আরেক পাশ দিয়ে যাওয়ার পর স্থির হয়ে শুয়ে থাকুন। ব্রিদিংয়ের ওপর মনঃসংযোগ করার চেষ্টা করুন। পবর্তাসন প্রথমে পদ্মাসনে বসুন। শ্বাস নিতে নিতে দু’হাত কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলুন। মেরুদণ্ড যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখুন। যোগাসনের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।