১১ বছরেই জীবনযুদ্ধে বিপ্লব

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ০০:০৩

যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়া কথা ছিল তার, সেই হাতে আজ রিকশার হ্যান্ডেল। যখন বন্ধুদের সাথে মাঠে প্রান্তরে ছুটে বেড়ানোর কথা ছিল তখন সে ঘুরাচ্ছে রিকশার প্যাডেল। এভাবেই জীবিকার তাগিদে জীবনের সঙ্গে অবিরাম সংগ্রাম করে চলতে হচ্ছে শিশু বিপ্লবকে।

১১ বছর বয়সী বিপ্লব রহমানের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায়। তার জন্মের কয়েক বছরের মাথায় তার মা-বাবা দুজনই  সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সেই থেকে বিপ্লব তার নানি জোহুরা খাতুনের আশ্রয়ে রয়েছে। নানি তাকে লালন পালন করে বড় করে তুলছেন। বর্তমানে নানির সঙ্গে সে সাভার মজিদপুর মহল্লার একটি ভাড়া ঘরে বসবাস করছে।

পয়লা মে শ্রমিক দিবসের দিন শিশু বিপ্লবের সাথে দেখা হয় এ প্রতিবেদকের। মাথায় হলুদ রংয়ের ক্যাপ, গায়ে টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট পরিহিত বিপ্লবকে রিকশা চালাতে দেখে প্রথমে মনে হয়, সে হয়তো শখের বশে বাবা কিংবা অন্য কারো রিকশার চালকের আসনে চেপে বসেছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেল সে নিজেই ওই রিকশার চালক। এত অল্প বয়সে রিকশা চালানোর কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলে ওঠে— ‘কি করুম, বাবা-মা নাই, নানির সাথে থাকি। নানির অসুখ, তাই পেটের দায়ে রিকশা চালাই।’  দৈনিক কত আয় হয় জিজ্ঞেস করলে বিপ্লব জানায়, দিনে ৪০০-৫০০ টাকা হয়।

নানি জোহুরা খাতুন তাকে কিস্তিতে রিকশা কিনে দিয়েছেন। বিপ্লবের নানা বেঁচে নেই। নানি-নাতির সংসারে শিশুটির আয়ের টাকায় রিকশার কিস্তি পরিশোধ ও নানির জন্য ওষুধ কিনে যা থাকে তাই দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। শিশুটিকে লেখাপড়ার কথা বলতেই তার চোখে মুখে দেখা গেল এক অসহায়ত্বের ছাপ। বলল, ‘পেটের দায়ে সারাদিন রিকশা চালাই, লেখাপড়া করুম কখন?’