স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি চায় যুক্তরাজ্য। একাত্তরে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে তারা দায়মুক্তি পাবে এমন ভাবা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করা উচিত। ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী ব্যারনেস সাঈদা ওয়ারসি গতকাল সোমবার ঢাকায় একথা বলেন। পাকিস্তান বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ মন্ত্রী চারদিনের সফরে সোমবার ঢাকা আসেন। দুপুরে গুলশানে ব্রিটিশ ভিসা সেন্টারে সদ্য প্রবর্তিত ‘প্রাইম টাইম’ ভিসা সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবাট ই গিবসন এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রাইম টাইম ভিসা সেবা কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবারও ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। ব্যবসা, বিনোদন, শিক্ষা, বিনিয়োগ, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যুক্তরাজ্য সফরে আগ্রহীদের শনিবারও ভিসা আবেদন জমা নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী ‘প্রাইম টাইম’ সেবা সম্পর্কে বলেন, প্রকৃত ভ্রমণকারী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত এই সেবা পাবেন। বিলেতের ভাল, স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রকৃত ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানায় ব্রিটিশ সরকার। এর ফলে তারা মানসম্পন্ন শিক্ষা নিতে পারবে।
১৯৭১ সালে জন্মগহ্রণকারী ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী সাঈদা ওয়ারসি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাজ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমর্থন করে। একাত্তরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সর্বত্রই এই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি। কারো দায়মুক্তির সুযোগ নেই। এই বিচার সুসম্পন্ন করা উচিত। তবে ‘মৃত্যুদন্ড’ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা। এ ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।
আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর ও পালা বদল হবে এটা সবার প্রত্যাশা। ২০০৮ সালে সুন্দর ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মতো ২০১৪ সালেও একটি নির্বাচন হবে আশা করি। আগামী নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে। এর ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। আগামী নির্বাচন কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে হবে সেটা আমাদের জন্য বিবেচ্য নয়। বাংলাদেশের জনগণ ও বিভিন্ন দল সেটা নির্ধারণ করবে।
হরতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কারো হরতাল ডাকার অধিকার আছে, তবে জনগণের স্বাভাবিক জীবন-যাপনেরও অধিকার রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সাঈদা ওয়ারসি যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরে নিযুক্ত হন গত বছর সেপ্টেম্বরে। তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
