বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০৪
প্রয়োজন গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক চর্চা আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা যে রূপ ধারণ করেছে তার ভবিষ্যত্ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই অন্ধকারকে দূর করে দিয়ে বাংলাদেশকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে প্রয়োজন উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক চর্চা। সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা এ তিনটি মূলতত্ত্ব নিয়ে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির যাত্রা শুরু হলেও আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এসেও এর বাস্তবায়ন হয়নি বরং দিনকে দিন রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যদি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই তবে দেখব যে, দেশের স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ে একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকার মত উন্নত দেশে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, তখন প্রতিপক্ষ পরাজিত হলেও নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ীকে শুভেচ্ছা জানায় এবং সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এটিই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জ্বলন্ত উদাহরণ। রাজনৈতিক উন্নয়ন উদারতাবাদের নিকট নতশির। আমাদের দেশ সেদিন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে হাঁটবে যেদিন আমরা দেশকে ভালবেসে হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি ভুলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক চর্চা করব। আর এই হল সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার উদাত্ত আহবান। সামিনা আক্তার রিয়া একাদশ (মানবিক বিভাগ) মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ। রক্তপাত নয়, চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনীতি মানে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা। মায়ের বুক খালি করা নয়, দরিদ্র আরো দরিদ্র হওয়া নয়, ধনীদের রাতারাতি আরো ধনী হওয়া নয়। এখনকার রাজনীতি হল অর্থনৈতিক অবস্থা যাদের ভালো, তারাই রাজনীতিবিদ। কিন্তু বাস্তবে যাদের মননে-চিন্তনে রাজনীতি—যারা দলমত নির্বিশেষে আপামর জনগণের জন্য কিছু করতে চান তারা সামনে আসতে পারেন না। অথচ দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এখন সেরকম নেতারই বড় বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আজ দুই নেত্রি নির্বাচন নিয়ে বিবাদ করেন। আর সাধারণ মানুষ জীবন পকেটে নিয়ে চলাফেরা করছেন। তাই সাধারণ মানুষ মনে করেন, যারা রক্ত নিয়ে খেলে, তাদের হাতে ক্ষমতা দেয়া উচিত নয়। যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তারা কখনো দেশ চালাতে পারে না। আর যারা দুর্নীতি করে তারা কিভাবে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে? তাই আমাদের শেষ কথা— চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রক্তপাত নয়। রক্তপাত উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশে বড় অন্তরায়। মো. আতিকুর রহমান সোহাগ শ্রেণি-একাদশ, বামনা সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, কলাগাছিয়া, বরগুনা। উদার গণতন্ত্রের প্রতি অনেকের বিশ্বাস নেই আমাদের দেশে চলছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। রাজনীতিবিদরা একে অপরকে মোটেই সহ্য করতে পারছেন না। নিজেদের ক্ষতি হলেও প্রতিপক্ষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে যান সবসময়। কোন ভাল কাজ করতে চাইলেও বাধা দেয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমরা দেখতে পাই, তারা পরস্পরের প্রতি কতটা অন্তরঙ্গ ও আন্তরিক। এক রাজনৈতিক দল অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে ভাল ও ভদ্র আচরণ করে। তারা মিলেমিশে ভাল কাজকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, আর খারাপ কাজকে বর্জন করে। বাংলাদেশে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। আমরা সবাই সুস্থ রাজনীতি প্রত্যাশা করি। দেশে সব রাজনৈতিক দল মিলেমিশে কাজ করলে কোন ধরনের হিংসাত্মক কার্যক্রম হবে না। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আর ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় হল, আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা এখনও পাইনি। আজও মানুষ রাজনৈতিক দলের বলির পাঁঠা হচ্ছে। কেননা যার যার দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য হরতাল, গাড়ি ভাংচুর, গাড়ি পোড়ানো ও নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছে। এজন্যই কি মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস নিরলস সংগ্রাম করেছিলেন? আজ সবার মুখে মুখে একটাই দাবি: নোংরা রাজনীতি না করে সুস্থ রাজনীতি করুন। তবেই না দেশ ও দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। আজ সবার মুখে মুখে নয়, অন্তরেরও চাওয়া- রাজাকারমুক্ত সুন্দর দেশ গড়ার। এজন্য উদার গণতান্ত্রিক আদর্শ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। পি.বি. জয় বি.এম ও কৃষি কলেজ ফুলমালীর চালা ঘাটাইল, টাঙ্গাইল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে মধ্যবর্তী সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোই ভূমিকা রেখে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আছে ক্ষমতা পাওয়ার নেশা। আর ক্ষমতা পাওয়ার প্রধান মাধ্যমই হচ্ছে নির্বাচন। বর্তমানে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাজ করছে প্রচণ্ড উত্তেজনা। এ উত্তেজনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার, সংঘাত ও সহিংসতার। অথচ উন্নত দেশ আমেরিকার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলে নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নেই কোন সংঘাত, প্রতিহিংসা এমনকি মারামারি। আমাদের দেশে বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিহীন নির্বাচন ব্যবস্থা। কিন্তু এখন এর কোন সুযোগ না থাকায় কোন কোন দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর প্রধান বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সে নির্বাচন গণতন্ত্রায়নের জন্য হবে না, সেটা হবে গণতন্ত্রের মুখ রক্ষার নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য আবশ্যক শর্ত। প্রধান বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কোনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আশা করা যায় না। কাজেই এ নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন বলতে পারি না। তাই সকল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার্থে হলেও ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে অবজ্ঞা না করে সকল দলকে আস্থায় নিতে হবে। সমঝোতার মাধ্যমে সঠিক নির্বাচনী পন্থাটি অবলম্বন করে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন গড়ে তোলাই প্রধান কর্তব্য। উদার গণতন্ত্রের মূলকথা সহনশীলতা। সেটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। মো. রেজাউল করিম এল.এল.বি (সম্মান) প্রথম বর্ষ প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।