সাতক্ষীরার নলতা গ্রামের তাঁতী পল্লীর উত্পাদিত সার্জিক্যাল গজ ও ব্যান্ডেজ এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ পল্লীতে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য গজ-ব্যান্ডেজ তৈরির বৈদ্যুতিকচালিত তাঁত শিল্প। এসব তাঁতীদের তৈরি গজ-ব্যান্ডেজ এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তাঁতী পল্লীর লোকজন জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যদি তাদের তৈরি এ সব মালামাল তারা সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ পেতো তাহলে তারা আরও বেশি লাভবান হতো।
নলতা ইউনিয়নের পশ্চিম নলতা, মাঘুরালী, মধ্যনলতা, পূর্বনলতা গ্রামের নারী-পুরুষ সকলেই এখন ব্যস্ত গজ-ব্যান্ডেজ তৈরি কাজে। আর এ কাজের সাথে জড়িয়ে আছে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ হাজার পরিবার। পূর্বনলতা গ্রামের তাঁতী আব্দুল জলিল জানান, বাবা-দাদার আমল থেকে তাঁত শিল্পের কাজ করে তাদের পরিবার চলতো। কিন্তু অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়ে একের পর এক তারা এ কাজ বন্ধ করে দেয়। এর পর তারা স্থানীয় তাঁত বোর্ডের জনৈক কর্মকর্তার পরামর্শে বৈদ্যুতিকচালিত তাঁত বসিয়ে গজ-ব্যান্ডেজ তৈরি শুরু করেন। তিনি জানান, এখন আমরা বৈদ্যতিকচালিত তাঁত শিল্প ব্যবহার করে ভালই আছি। আর এখানকার গজ -ব্যান্ডেজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় সেটি আমরা বিদেশেও রপ্তানি করতে পারছি। তিনি আরো জানান, প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ বেল্ট গজ উত্পাদন করেন তিনি। এখন তার ২৫টি বৈদ্যুতিক তাঁত শিল্প চলছে বিরামহীন ভাবে। শুধু তাই নয় ৩০ থেকে ৩৫ জন তাঁত শ্রমিকের বেতন দেন তিনি। পূর্বনলতা গ্রামের মাসুদ হোসেন জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নলতার সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ ও রোলার ব্যান্ডেজ নিয়ে তারা সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও জাপানে রপ্তানি করছেন। তবে এসব তাঁতীদের দাবি তাদের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে এ সব মধ্যস্বত্বভোগীদের ।
কালিগঞ্জ তাঁত বোর্ড সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার মোঃ সামছুর রহমান জানান, নলতা গ্রামের গজ-ব্যান্ডেজের গুণগতমান খুবই ভালো। এ গজ ব্যান্ডেজ ব্যবসায়ীরা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
