আফগান দোভাষীদের ব্রিটেনে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রসঙ্গে

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০২
‘কাজের বেলা কাজী, কাজ ফুরাইলে পাজি’ প্রবাদটির সত্যতার প্রমাণ মিলিতেছে আফগান দোভাষীদের সহিত ব্রিটিশ সরকারের আচরণে। খবরে প্রকাশ, জীবন বাঁচাইবার তাগিদে একান্ত বাধ্য হইয়া আফগানিস্তানে ব্রিটিশ বাহিনীর হইয়া দোভাষীর কাজ করা কয়েকজন আফগান ব্রিটেনে অ্যাসাইলাম লাভের আবেদন করিয়াছিলেন বেশ কিছুদিন পূর্বে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, একান্ত প্রয়োজনীয় এই বিষয়টি লইয়া সময় ক্ষেপণের রাস্তা ধরিয়াছে লন্ডন। এইদিকে উপায়ন্তর না দেখিয়া অবশেষে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়াছেন। ইরাকে-আফগানিস্তানে বেশ কিছুসংখ্যক লোক বহুজাতিক আগ্রাসনকারী বাহিনীর হইয়া দোভাষীর কাজ করিতেছে। ইরাকী দোভাষীদিগকে ইতিপূর্বে বহুজাতিক বাহিনীর সদস্য নানান দেশ অ্যাসাইলাম সুবিধা প্রদানের মধ্য দিয়া উদ্ভূত সমস্যার এক ধরনের সমাধান ঘটাইয়াছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ আফগান দোভাষীদের জন্য একই ধরনের সুবিধা দিয়াছে। কিন্তু গোল বাঁধিয়াছে ব্রিটেনের ক্ষেত্রে। দেশটি কাহাকেও কাহাকেও ইতিমধ্যে সুবিধাটি প্রদান করিলেও অনেকের ক্ষেত্রে নীরব হইয়া থাকিবার নীতি অবলম্বন করিতেছে, যাহা ব্রিটেনে আশ্রয়প্রাপ্ত বহু আফগান দোভাষীর মধ্যে জীবনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা দিনকে দিন প্রকট করিয়া তুলিয়াছে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে উগ্রবাদীরা বহুজাতিক বাহিনীর দোভাষীদিগকে পাইলেই হত্যা করিয়া থাকে। ইতিপূর্বে আফগানিস্তানে একাধিক দোভাষী হত্যার ঘটনা ঘটিয়াছে। এইদিকে, আফগান সরকারও বহুজাতিক বাহিনীর দোভাষীদের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নহে। তাহারা যে কোন কারণেই হউক এই দোভাষীদিগকে সরকারকে পাশ কাটাইয়া বহুজাতিক বাহিনীকে সাহায্য করা লোক মনে করে। এমনকি জনসাধারণের যেই অংশটি উগ্রবাদী-বিরোধী, তাহারাও এই দোভাষীদিগকে বলিতে গেলে ঘৃণা করে। এমতাবস্থাতে আফগানিস্তানে ফিরিয়া গেলে এইসব দোভাষীর জীবনের নিরাপত্তা কতটুকু থাকিবে তাহা লইয়া সকল মহলেই গুরুতর সন্দেহ রহিয়াছে। ন্যাটো বাহিনী সহসাই আফগানিস্তান হইতে সরিয়া আসিবার তোড়জোড় শুরু হইবার কারণে দোভাষীদের জীবনের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি অধুনা জোরালোভাবেই আলোচিত হইতেছে। আগ্রাসনকারী বাহিনীর অন্যান্য দেশ এই বিষয়টি এক ধরনের সুরাহা করিয়া ফেলিলেও সম্ভবত মন্দার বত্সরগুলিতে ইমিগ্রেশন-অ্যাসাইলাম বিষয়টি লইয়া সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থানে থাকা সাধারণ জনগণের তোপের মুখে পড়িতে চাহিতেছে না ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রশ্ন হইতেছে, নিজের কাজ সারিয়া গেলে একদা যাহারা নিজের লোক ছিল তাহাদিগকে বিপদের মুখে ফেলিয়া দেওয়াটা কেমন নীতি? আফগান দোভাষীদের ব্রিটেন ত্যাগ করিয়া দেশে চলিয়া যাইতে হইলে তাহাদের বাঁচিয়া থাকিবার সম্ভাবনার ব্যাপারে একটি বড়সড় প্রশ্নবোধক এখনি আঁকিয়া দেওয়া যায়। আগ্রাসনকারীদের হইয়া কাজকর্ম করা লোকজনকে কোন না কোন সময় আসিয়া এই বাস্তবতার মুখোমুখি হইতে হয়। ব্রিটেনের হইয়া দোভাষীর কাজ করা আফগানদের ক্ষেত্রে তাহাই এখন ঘটিতেছে।