জামায়াতে ইসলামীর বিচার করে শাস্তির আওতায় আনতে হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন আইন-২০১৩ আবার সংশোধন করতে হবে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করার জন্য গত রবিবার পাস হওয়া আইনে অপরাধী ব্যক্তির সঙ্গে সংগঠনকেও যুক্ত করা হয়েছে। তবে বর্তমান আইনে সংগঠনকে বিচারের আওতায় আনা হলেও শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। ফলে কোন সংগঠনের এ অপরাধে বিচার করতে হলে এ আইন সংশোধন করে শাস্তির বিধানের বিষয়টি যুক্ত করতে হবে।
বিষয়টি নজরে আসার পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত রবিবার এ ব্যাপারে আইন কমিশনের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির পরিধি সম্পর্কে মত চাওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় আইনটি আরেক দফা সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আইনে ব্যক্তির শাস্তির বিষয়টি আইনে নির্ধারিত হলেও সংগঠনের শাস্তির বিষয়টি এখনও নির্ধারিত হয়নি। এজন্য আইন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সংগঠনের বিচারের বিধান রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নািস বাহিনীর যেভাবে সাজা দেয়া হয়েছিল সে প্রক্রিয়াটি খুঁজে দেখছে আইন মন্ত্রণালয়। সেটিকে মডেল ধরেও আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।
এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ ব্যাপারে বলেন, পাস হওয়া আইনে শাস্তির বিধান সুনির্দিষ্ট করে আইন সংশোধন করতে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণের পর ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, সে সময় সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবেও শাস্তির বিধান করা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল বা নূরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের সনদের নবম অনুচ্ছেদে বলা হয়, কোন গোষ্ঠী বা সংগঠনের একজন সদস্যের বিচারের সময় ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন। ১৯৪৫ সালে ওই ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ ২২ ব্যক্তি এবং সাতটি সংগঠন ও গোষ্ঠীর বিচার করে।
এখনই জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না: সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীকে এ মুহূর্তেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। তবে আইনে তাদের বিচারের আওতায় রেখে চাপ বাড়ানো হয়েছে। একাধিক সূত্র মতে, সরকার এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়। জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার নিলেও হঠাত্ করে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেই।
