জেল থেকে ছাড়া পেল জানল না কেউ!

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
কারা ফটকে দায়িত্ব পালন করে সরকারের সবকয়টি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। অথচ তাদের সামনে দিয়ে মুক্তি পেলেন (অবৈধ মাদকদ্রব্য রাখার মামলায় ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইয়াবা সম্রাট আমিন। ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আর মুক্তিপান পরের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে। তারও একটি দিন পরে তা জানতে পারে আমিন হুদাকে গ্রেফতারকারী সংস্থা র্যাব। শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি মো. আব্দুল হাই ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১১ ফেব্রুয়ারি আমিন হুদাকে ৬ মাসের জামিন দেয়। আমিন হুদার পক্ষে জামিন আবেদন করেন কৌঁসুলি এডভোকেট আব্দুল বাসেত ও এডভোকেট খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা জামিন আবেদনে বলেছি, আমিন হুদা দীর্ঘদিন যাবত কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি অসুস্থ। তার চিকিত্সার দরকার। তিনি বলেন, আমাদের এসব যুক্তি উপস্থাপনের পর হাইকোর্ট ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আমিন হুদার শারীরিক অবস্থার উপর মেডিক্যাল রিপোর্ট তলব করেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ আমিন হুদার শারীরিক অবস্থার উপর মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিল করে। ঐ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমিন হুদার জামিনের আদেশ পাওয়ার পর আমরা একদিন অপেক্ষা করেছি। আলোচনা করেছি কারাগার ফটকে দায়িত্বপালককারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে। কিন্তু তারা কোন আপত্তি করেনি। এরপরই আমিন হুদাকে মুক্তি দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ২৫ অক্টোবর গুলশানের দুইটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক হাসানকে গ্রেফতার করে র্যাব। উদ্ধার করা হয় ৪২ ধরনের ১৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ১ লাখ ৩০ হাজার আইস পিল (ইয়াবার বিকল্প), ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, নিষিদ্ধ ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম, ফেনসিডিল, বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, ১২ টি মোবাইল ফোন। এ ঘটনায় গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আদালত গত বছর ১৫ জুলাই ৭৯ বছরের সাজা দেন। তবে তাকে সবোর্চ্চ ১৪ বছর সাজাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন আমিন হুদার আইনজীবীরা।