বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিপত্র (এলওআই) প্রাপ্ত নতুন ৯টি ব্যাংকের মধ্যে আরো দুই ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ দুটি ব্যাংক হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ‘ফার্মার্স’ এবং প্রধানমন্ত্রীর আয়কর আইনজীবী ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম মনিরুজ্জামান খন্দকারের ‘মিডল্যান্ড ব্যাংক’। এর আগে আরো পাঁচটি ব্যাংক লাইসেন্সের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বৈঠকশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংক দুটির মেমো ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে। বোর্ডের অনাপত্তি পাওয়ায় এ দুটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে আরো কিছু পদ্ধতিগত কাজ রয়েছে বলে জানান তিনি। চূড়ান্ত লাইসেন্সের বিষয়ে এসকে সুর চৌধুরী বলেছেন, বোর্ডের অনুমোদন প্রাপ্ত এসব ব্যাংক রেজিস্র্বার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এন্ড ফার্ম্স (আরজেএসসি) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কোম্পানি গঠন করতে হবে। এরপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের জন্য চূড়ান্ত লাইসেন্স দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আর্টিকেল অব মেমোরেন্ডাম ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের কর্মসক্ষমতা আছে কি-না সে বিষয়ে প্রি-ইন্সপেকশন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে সক্ষমতা প্রমাণিত হলে তারা ব্যাংক শাখা খোলার অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে। ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে সপ্তাহখানেক এবং ব্যাংক শাখার জন্য অনুমোদন পেতে কয়েক মাস সময় লাগবে বলে সুর চৌধুরী জানান। এসব বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে এ দুটি ব্যাংক। এর আগে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য যেসব ব্যাংক অনুমোদন পেয়েছে সেগুলো হচ্ছে: এনআরবি কমার্শিয়াল, ইউনিয়ন, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল এন্ড কমার্স, মেঘনা ও এনআরবি ব্যাংক। ফার্মার্স ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান হিসেবে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম ছিল। কিন্ত একইসঙ্গে মন্ত্রী ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকা গণপ্রতিনিধিত্ব আইনবিরুদ্ধ হওয়ায় চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মহীউদ্দীন খাঁন আলমগীরের স্ত্রী সিতারা আলমগীরের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভায় দু’দফায় নতুনভাবে ৯টি ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। এ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা নতুন ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়ে বিরোধিতা করার পরও গত বছর ৪ এপ্রিল প্রথমে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে তিনটি এবং ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ৬টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় পর্ষদ। এরপর গত ১৭ এপ্রিল এসব ব্যাংককে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উপযুক্ততা অর্জনের কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর আবেদন করার ছিল শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ে ৭টি ব্যাংক আবেদন করলেও বেশকিছু বিষয়ে ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সময় নিয়েছে এনআরবি গ্লোবাল ও মধুমতি ব্যাংক।
