জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তৃতীয় দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে ১ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে গোলাম আযম পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ৭০ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি রাজাকারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। ঐ বৈঠকেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্ত হয়। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নতুন করে দাখিল করা ডক্যুমেন্ট গ্রহণ না করার জন্য আবেদন করে আসামিপক্ষ। এ আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম।
কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম তিনজন সাক্ষীর দেয়া জবানবন্দি ও একজন সাক্ষীর তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে তিনি আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা প্রথম অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন। ৬টি ঘটনায় অভিযোগটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন সময় তার দেয়া বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতা বিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি বলেন, সুপিরিওর অবস্থানের কারণে গোলাম আযম টিক্কা খান, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করেন, শান্তি কমিটি গঠন ও রাজাকার বাহিনী গঠন করেন, কুপন দিয়ে টাকা তোলার ব্যবস্থা করেন, রাজাকারদের ক্যাম্পে বক্তব্য দেন, নৃশংসতার ক্ষেত্রে রাজাকারদের বিরত না রেখে, বাধা না দিয়ে বরং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করেন। এ অবস্থানের কারণে গোলাম আযম নৃশংসতার দায় এড়াতে পারেন না।
