কুমিল্লা মহানগরীতে অর্ধশতাধিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু যথাযথ সরকারি উদ্যোগ ও সমন্বয়হীনতার কারণে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করা হচ্ছে না। পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে বসবাসে যে কোন সময় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিও ঘটে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। জানা যায়, মহানগরীর কান্দিরপাড় এলাকার জিলা স্কুল রোডে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত পৌর বিপণী মার্কেটের ২য় তলার ছাদের আংশিক ধসে পড়ে গত বছরের ৯ আগস্ট। সিটি কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী দু’তলা ভবনের ওই মার্কেটটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে ওই মার্কেটটিতে ৪৬টি দোকান রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সে সময় এই মার্কেটের মালামাল ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরানোর নির্দেশ দিলেও পরে রহস্যজনক কারণে মার্কেট ভাঙ্গা থমকে যায়। অথচ মার্কেট ভবনের বিভিন্নস্থানে রয়েছে অসংখ্য ফাটল। যে কোন সময়ে এই মার্কেটের ভবন ধসে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে অনেকের আশংকা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। এদিকে মহানগরীর রামঘাটলায় বিএমএ ভবনটিও বহু পুরানো ও জরাজীর্ণ, যে কোন সময় তা ভেঙ্গে পড়তে পারে। এছাড়াও নগরীর মনোহরপুর, কাপড়িয়াপট্টি, ছাতিপট্টি, ঝাউতলা, রেইসকোর্স, দারোগাবাড়ি, নবাববাড়ি, মুরাদপুরসহ আশপাশে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। যেখানে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, কান্দিরপাড় জিলা স্কুল রোডের সিটি মার্কেটটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। শিগিগরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন যেসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ওইসব ভবনের মালিককে ইতোমধ্যে নোটিস দেয়া হয়েছে।
