রাজধানীতে জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে মেট্রোরেল নির্মাণে অর্থায়নের জন্য জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় মেট্রোরেল ছাড়াও বিদ্যুত্ সরবরাহের উন্নয়ন ও ভেড়ামারা বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে মোট ৬ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাইকা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং চীনের রাষ্ট্রদূত সিরো সাদোসিমা এবং জাইকার বাংলাদেশস্থ প্রধান প্রতিনিধি ড. তাকাও টোডা ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই-ইলাহি চৌধুরী এবং জাইকা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জাইকার ঋণের সুদ হার বাত্সরিক শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। যা ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য। তিন প্রকল্পে ঋণ প্রদান ছাড়াও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বিষয়ক অপর একটি প্রকল্পে জাইকা প্রায় ৭২ কোটি টাকা অনুদান দেবে।
বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন করায় জাপান সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল একটি মাইলফলক সৃষ্টি করবে। সুদ হার খুব নগণ্য হওয়ায় তা বাংলাদেশের জন্য অনেক উপকারী হবে। বিদ্যুত্ খাতের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের আমলে বিদ্যুত্ উত্পাদন অনেক বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। তাই জাইকার অর্থায়নের মাধ্যমে ভেড়ামারা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রীডে যোগ হলে অবশ্যই তা আমাদের উন্নয়নে প্রভাব রাখবে।
জাইকার বাংলাদেশস্থ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাও টোডা তার বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন উন্নত দেশেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাসের অপচয় হয় প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশের মতো। আর ভেড়ামারা বিদ্যুত্ কেন্দ্রে তা এরচেয়েও কম হবে। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি বিষয়ক প্রকল্পের আওতায় সুপেয় পানির অনুসন্ধান এবং আর্সেনিকপ্রবণ অঞ্চলে অধিকতর গভীরে খননের জন্য উন্নতমানের যন্ত্র দেয়া হবে। যা গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারের ভিশন-২০২১ অনুযায়ী, মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হতে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বড় উন্নয়নের বিকল্প নেই। এজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এ উন্নয়নের পথে জাপান সরকার আমাদেরকে অব্যাহতভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মেট্রোরেলের অর্থায়নেও জাইকা এগিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেল হলো বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর মাধ্যমে ঢাকার অনেক মানুষ সহজে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। আর ব্যয় হবে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইক দিবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা।
