ভারতের ১১টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দুদিনের বনধ্ গতকাল বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। বনেধর কারণে সারা দেশে ব্যাংক-বীমায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। দিল্লি, মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। পাঞ্জাবে কলকারখানায় হামলা করা হয়। এ সময় এক শ্রমিক নেতা নিহত হন। মূল্যবৃদ্ধি রোধ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ও কঠোর শ্রম আইন প্রয়োগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার বনধ্ (ধর্মঘট) আহ্বান করে ডান-বাম-হিন্দুত্ববাদী সব শ্রমিক ইউনিয়ন। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির।
গতকাল ধর্মঘটের শুরুতেই, সকালে পিকেটিং করার সময়ে পাঞ্জাবে একজন শ্রমিক নেতা খুন হন। বামপন্থি সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ধর্মঘট বিরোধীরা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আছেন। দেশের কিছু জায়গায় ধর্মঘট সমর্থকদের ওপরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ধর্মঘটে দেশ জুড়ে ব্যাংক-বীমা একরকম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে আর জনজীবনে ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে, তবে তা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েনি। বেসরকারি বাস, মিনিবাস, ট্যাক্সি খুবই কম চলেছে। ট্রেন আর পাতাল রেল প্রায় স্বাভাবিক ছিল, বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। তবে স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ না দিলে একদিনের বেতন কাটা যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল রাজ্য সরকারের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে বন্ধ বা ধর্মঘট ডাকবে যেসব রাজনৈতিক দল, তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব তিনি পাঠাবেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে। কেরালা ও ত্রিপুরায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
ধর্মঘটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গুজরাটের পরিবহন ব্যবস্থা? রাজস্থানের চিত্রও প্রায় এক? পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও ব্যাঙ্গালোরেও ধর্মঘটের আংশিক প্রভাব পড়েছে। উড়িষ্যা ও বিহারে ট্রেন অবরোধ করেন ধর্মঘটের সমর্থকরা। ধর্মঘট আজ বৃহস্পতিবারও চলবে। সরকার ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
