ইরান থেকে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৮
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দেখাদেখি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা নিতে পারে এবং এভাবে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কাকে বড় করে দেখার কোনো কারণ নেই বলেই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’ (সিএনএএস)। ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে ধারণা পশ্চিমা বিশ্বের। ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র সক্ষম হয়ে উঠলে মিসর এবং তুরস্ক পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকতে পারে। তাছাড়া শিয়া ইরানের ঘোর শত্রু দেশ সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা আরো বেশি বলেই মনে করে পশ্চিমা দেশগুলো। ওদিকে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ বলে মনে করা হলেও দেশটি এখনো এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনোকিছু বলেনি। কিন্তু সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সাল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র সক্ষম হয়ে উঠলে সৌদি আরবও সেপথে পা বাড়ানোর কথা ভাববে।২০৩২ সালের মধ্যে আণবিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠারও ঘোষণা দিয়েছিল রিয়াদ। কিন্তু ‘সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’ (সিএনএএস) তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি কিছুটা থাকলেও দেশটি এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করার সম্ভাবনা বেশি। বোমা তৈরির ব্যাপারে তারা নির্বিঘ্নে এগুতে পারবে না। কারণ আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি হাতে নেয়াসহ এর ব্যয় নির্বাহ করা সৌদি আরবের জন্য কঠিন হবে। তাছাড়া এ কর্মসূচি পরিচালনা অনেকাংশেই নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। রিয়াদ পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ায় কিছু কিছু বিশ্লেষক বলছেন, দেশটি নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করে বরং পাকিস্তান থেকে পরমাণু বোমা কেনার চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন আশঙ্কাও নাকচ করেছে সিএনএএস। বাইরে থেকে পরমাণু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা খোঁজার চেষ্টা নিলেও সৌদি আরবের বরং নিজেদের প্রচলিত সুরক্ষা ব্যবস্থাই আরো শানিত করার পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সিএনএএস-এর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মিসরের ক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করে না।