শ্রমিক নেতাদের চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা ব্যানার্জি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে বন্ধ-মুক্ত করার ‘অগ্নিপরীক্ষা’য় সফল হয়েও প্রবল বিতর্কিত এক মন্তব্যে ফের কাঠগড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবিষ্যতে বন্ধ বা ধর্মঘট আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বুধবার রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে নয়া বিতর্কের সূত্রপাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রধান। বাম ও ডানপন্থি ১১টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দু’দিনের ভারতব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া কলকাতায় কেমন পড়েছে, তা বুধবার সরজমিনে দেখে আসার পর মমতা মহাকরণে এই দাবি তোলেন। সব বিরোধী দল এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তীব্র ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। — খবর বর্তমান পত্রিকার। তবে সংবিধান বা আইন সংশোধনের আগে কোন রাজনৈতিক দলকে এ ভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা যে নির্বাচন কমিশনের নেই, সে কথাও সকলেই জানেন। একই মত জানিয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সিটু ও এ আই টি ইউ সি সংগঠনের দুই সাধারণ সম্পাদক তপন সেন এবং গুরুদাস দাশগুপ্ত দিল্লিতে বলেছেন, আমাদের সংগঠনকে পারলে মমতা নিষিদ্ধ করুন, আমরা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্পতায় ফের কর্মনাশা বন্ধ-মুক্তির দিশা দেখল পশ্চিমবঙ্গ। কঠোর প্রশাসনের মুখে সম্ভবত এবারই প্রথম জোর করে বন্ধ-বিলাস ছেড়ে অফিসে হাজির সরকারি কর্মচারীরা। কম হলেও, পথে নামল যানবাহন। চালু ছিল মেট্রো বা পাতাল রেল। ফেরি সার্ভিস। এমনকী সচল বেশ কিছু দোকান-বাজারও। তবে স্কুল-কলেজ বেশিরভাগই বন্ধ ছিল। বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তবে হাতেগোনা। শুধু সাড়া মিলল না ছুটির আমেজ চেটেপুটে নিতে অভ্যস্ত ‘ছুটি-প্রেমী’ বেশিরভাগ বাঙালির। পথে নেমে জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাবে তাই অনেকটাই যেন মাঠে মারা গেল প্রশাসনের আন্তরিক বন্ধ-বিরোধী জেহাদ।