বিষমুক্ত সবজি আর মিশ্র ফল বাগান করে সফল হয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ডহরশৈলা গ্রামের আমছের আলী। এখন তিনি কোটি টাকার মালিক। তার এ বিষমুক্ত সবজি খামারটির নাম ফাতেমা কৃষি খামার।
বাবার মাত্র ২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ দিয়ে আমছের আলীর পথচলা শুরু। বর্তমানে ১০৩ বিঘা জমিতে তিনি নানা জাতের সবজি ও ফলমূলের চাষ করছেন। উত্পাদিত সবজি ও ফল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। তার এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে ঢাকার খামারবাড়ি থেকে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের উপ-পরিচালক (ফাই) আবুল হাসেমসহ কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা গত ১১ ফেব্রুয়ারি ডহরশৈলা গ্রাম ঘুরে যান।
আমছের আলী জানান, ১৯৯২ সালে তিনি মুলা, বেগুন, ঢেঁড়স, মরিচ ও ঝিঙ্গা চাষ করে লাভবান হন। পরের বছর ব্যাংক থেকে তিনি ঋণ নিয়ে অন্য মানুষের জমি ইজারায় সবজি চাষ শুরু করেন। এর পাশাপাশি নাটোর হর্টিকালচার থেকে আপেল কুলের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। পরে তিনি থাই ও বাউ কুল লাগান। এভাবে প্রতিবছর তিনি জমি ইজারা নিয়ে আবাদের পরিমাণ বাড়ান। ২০০৮ সালে ২৪ বিঘা জমিতে কুল ও পেয়ারার মিশ্র বাগান করেন। একই সময়ে তিনি ১৮ বিঘা জমি কিনে লিচু ও আমের বাগান করেছেন। বর্তমানে তার ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৬ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান, এ বছর বেগুন, শশা, মুলা, পাতাকপি, ফুলকপি, গাজর, শিম, টমেটো, লাউ, বাউকুল, আপেলকুল, থাইকুল ও পেয়ারা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আয় করেছেন। এখনো প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে তিনি খৈল ও জৈব সারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এছাড়াও তিনি কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করেন জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ। ইতিমধ্যেই তিনি গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বর্ষাকালের জন্য প্রতি ট্রলি ৫শ টাকা হিসাবে আগাম গোবর সার কিনেছেন। লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আমছের আলীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
