চট্টগ্রামে শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের লাখো জনতা। নানা বয়সের নানা পেশার অসংখ্য মানুষ নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে একুশে উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বসানো হয় ৬টি সিসি ক্যামেরা। শহীদ মিনারের প্রবেশপথে বসানো হয় আর্চওয়ে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রভাতফেরিতে আসা লোকজনের দেহ তল্লাশি করে। শহীদ মিনার অভিমুখে জনতার স্রোত শুরু হয় একুশের প্রথম প্রহরেই। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিনের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি সূচনা হয়। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল শহীদ মিনারে গার্ড অব অনার প্রদান করে। মন্ত্রীর পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম। তারপর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি ও এমএ লতিফ পৃথকভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পালা শেষ হওয়ার পরই শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শুরু করেন। এ সময় সমবেত জনতা ভাষা আন্দোলনের চিরায়ত সঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গাওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। শহীদ মিনারে জনতার এই ঢল অব্যাহত থাকে গতকাল সারাদিন। এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় বায়ান্নোর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে বিএনসিসি’র একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে একুশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন, শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল বডি, বিভাগের প্রধানসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকরা ফুল দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব (ক্যাম্পাস), চবি মহিলা সংসদ, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রফ্রন্ট, প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ৯টায় ক্যাম্পাসের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে একুশে উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তাল গণজাগরণ মঞ্চ এদিকে নগরীর শহীদ মিনারে সকল প্রভাত ফেরি গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ফিরে আসতে থাকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর ও জামাল খান গণজাগরণ মঞ্চের দিকে। কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ শুরু হয়ে যায়। প্রতিবাদী গান, মুক্তিযুদ্ধের গান আর শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের জামাল খান। চট্টগ্রামে যুদ্ধাপরাধী বিরোধী গণজাগরণের ১৬তম দিবস গতকাল অতিবাহিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এদিকে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ৬ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণাগুলো হচ্ছে- কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তির ঐক্য বজায় রাখা, জামায়াতের রাজনীতি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা, অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন করে ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ঘোষণার ক্ষমতা বাতিল করা, ৭৫ পরবর্তী সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন যেসব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদেরকে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতাধীন করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল পণ্য ও সেবা, তাদের তৈরি করা সাংস্কৃতিক সংগঠন, নয়া দিগন্ত, আমার দেশ, সংগ্রাম, দিগন্ত টেলিভিশন বিভিন্ন মিডিয়াসহ তাদের সকল সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কোচিং সেন্টার, ব্যাঙ্ক-বীমাসহ সকল ব্যবসায়িক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বয়কট করা।