প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অসামপ্রদায়িক সমাজ গঠনে আবারো অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে জনগণ ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমান অধিকার ভোগ করবে। তিনি বলেন, সরকার একটি অসামপ্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে জনগণ ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমঅধিকার ভোগ করবে এবং জনগণের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে কেউ আঘাত করবে না। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএলআই) চারদিনের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা একথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং আইএমএলআই’র মহাপরিচালক ড. জিনাত ইমতিয়াজ আলীও বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লেখক ও নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক রশিদ হায়দার ‘নোবেল পুরস্কার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর সরকার স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিজ্ঞান ভিত্তিক একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে চাই। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দারিদ্র্য নিরসন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারো ভিক্ষা চাই না, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই এবং আমাদের নিজেদের উদ্যোগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, যেভাবে আমরা রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জন করেছি, ইনশাআল্ল¬াহ সেভাবে এটিও অর্জন করবো। বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন শক্তি বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে বাঙালি জাতির জাগরণের এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার দিন হিসাবে উল্লে¬খ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি বীর জাতি হিসাবে সারা পৃথিবীও এটিকে সানন্দে গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাঙালি এবং বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিটি সাফল্য অর্জন করেছি।’ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহের বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মাতৃভাষার অধিকারের ও বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার দাবি জানায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সে সময় কারাগার থেকে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি সে সময় পাকিস্তানি শাসকদের নীতির প্রতিবাদে ১১ দিন অনশন ধর্মঘট করেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর একুশের চেতনা ও শিক্ষা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে শেখ হাসিনা আইএমএলআই’র ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন।
