জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি হলেও এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চান না জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। আমেরিকায় দুই সপ্তাহের সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন এরশাদ। এ সময় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিকে তিনি সমর্থন করেছিলেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য তিনি করেননি এবং এখনো করতে চান না বলে জানান।
একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করার কথাও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান। সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় এরশাদের দলের এক নেতার বরাত দিয়ে বলা হয় ‘এরশাদ জামায়াত নিষিদ্ধ করার পক্ষে। এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানাতে এরশাদ শাহবাগ যাবেন বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। বৃহস্পতিবার এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, এটি মিথ্যা কথা। আমি শাহবাগ যাওয়ার কথা কাউকে বলিনি। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের বিষয়ে এরশাদ বলেন, এই রায় নিয়ে অনেকের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে। শাহবাগের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকার ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করেছে। মহাজোটে থাকলেও সংসদে ওই আইন সংশোধনের বিল উত্থাপনের সময় কেউ তাকে এই বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞেস করেননি বলে জানান এরশাদ। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের থেকে ১১ জন প্রতিনিধি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু ওই সরকারের প্রধান কে হবেন তার ওপর নির্ভর করছে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি-না। আমেরিকায় সফরকালে সেদেশের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং সেদেশে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেছেন বলে জানান এরশাদ।
