দেশের বিভিন্ন স্থানে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ, ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৩২ জন। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে আগে ফুল দেয়ার ঘটনায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুষ্প প্রদান অনুষ্ঠান পণ্ড হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভালুকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে রক্তে রঞ্জিত হয়েছে শহীদ মিনার চত্বর। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
রাজশাহী অফিস: একুশের প্রথম প্রহরে মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসন, হাসপাতাল প্রশাসন ও চিকিত্সক অ্যাসোসিয়েশনের পর ফুল দিতে যান ইন্টার্ন চিকিত্সক পরিষদ নেতারা। কিন্তু তাদের বাধা দেয় ছাত্রলীগের নেতা আবিদ হাসান ও সোহেলসহ তাদের সহযোগীরা। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ইন্টার্ন (শিক্ষানবীশ) চিকিত্সক পরিষদ হাসপাতাল শাখার সভাপতি তানিকুর রহমান টিটু, তার সমর্থক মিতুল, রাজিব ও রহিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাত ১২টার দিকের এই সংঘর্ষের ঘটনায় রামেক ছাত্রলীগের দু’পক্ষের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ঘটনার বিচারের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিত্সক পরিষদ মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে তারা ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতাদের নাম ঘোষণা না করাকে কেন্দ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় লাঞ্ছিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিনসহ তার অনুসারীরা। আহত হয়েছেন সোহরাব গ্রুপের উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এখলাছ উদ্দিন, পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন পাপ্পু, পৌর ছাত্রলীগের সদস্য মো. ইব্রাহিম, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরবিনসহ কমপক্ষে ১০-১২ জন নেতা-কর্মী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রামদাসহ আটক করেছে আহত ছাত্রলীগ নেতা মো. আরবিনকে।
কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ছাত্রদল ফুল দিতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বেশিরভাগ জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর দক্ষিণ থানার ওসি আইনুল হক শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ করে শিক্ষার্থীদের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভালুকা (ময়মনসিংহ): উপজেলার হবিরবাড়ি সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার চত্বরে বিএনপির এক গ্রুপের হামলায় অপর গ্রুপের ৭ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আতংকে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হন।
ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু গ্রুপ ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। বাচ্চু গ্রুপের সমর্থকরা ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে মোর্শেদ গ্রুপের সমর্থকরা হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাচ্চু গ্রুপের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে বাচ্চু গ্রুপের ৭ নেতা-কর্মীর রক্তে রঞ্জিত হয় ওই শহীদ মিনার চত্বর। আহতরা হলেন- আমিনুল ইসলাম খান বাসান, বদরুল আলম, সাফিজ উদ্দিন, আবুল কাশেম, আবু আরফান, বাবুল ও রতন মিয়া।
পরশুরাম (ফেনী): পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা সদরে অমর একুশের প্রথম প্রহরে বুধবার রাত বারোটার পর কিছু উশৃংখল যুবক পরপর বেশ ক’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং একটি যাত্রাবাহী বাসসহ বেশ ক’টি গাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আতাতুর্ক উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছিলেন। এরপর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এক পর্যায়ে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুই দলকে দুইদিকে পাঠিয়ে দেয়।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন দাবি করেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে তাদের কিছু কর্মীকে আটক করেছে।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিজাম উদ্দিন জানান, বুধবার রাতে কিছু উশৃংখল যুবক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ৩১ জনকে আটক করা হয়। ১৬ জনকে ছেড়ে দিয়ে ১৫ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
