সাঘাটার ‘কমলা সুন্দরীর’ চাহিদা সারাদেশে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
টুক টুকে লাল রংয়ের মিষ্টি আলু “কমলা সুন্দরী”র চাষ হচ্ছে সাঘাটা উপজেলার রামনগর গ্রামের কাটাখালি নদীর তীরের বালু চরে। উত্পাদিত মিষ্টি আলু বিক্রি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অল্প সময় ও স্বল্প খরচে বেশি উত্পাদন পেয়ে চাষীরা খুব খুশি। সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালি নদী। এ নদীর উভয় তীরের ভূমিগুলো ধু-ধু বালু চর। ফলে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। কাটাখালি নদীর তীরের শত শত কৃষক এখন মিষ্টি আলুর চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। রামনগর গ্রামের কৃষক ছাইদার রহমান, লিয়াকত আলীসহ আরো অনেক কৃষক জানায়, এক সময়ে চরগুলোতে কোনো ফসলই ফলানো সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের পরামর্শে গত কয়েক বছর ধরে চরের জমিগুলোতে “কমলা সুন্দরী’’ জাতের মিষ্টি আলু চাষাবাদ করা হচ্ছে। কৃষকরা জানায়, ১ বিঘা জমিতে আলু চাষের শুরু থেকে ব্যয় হয় ৪-৫ হাজার টাকা। কোনো রকম কীটনাশক, সেচ প্রয়োগ, পরিচর্যা ও অন্যান্য ব্যয় ছাড়াই বিঘা প্রতি মিষ্টি আলু উত্পাদন হয় ৭০-৮০ মন। প্রতি মণ আলুর দাম ৫শ টাকা। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা আলু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর কার্তিক মাসে মিষ্টি আলুর লতা জমিতে লাগানো হয়। মাত্র ৩ মাসেই আলু উঠানো শুরু করা হয়েছে। আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত আলু উঠানো চলবে। মিষ্টি আলু ক্রয় করতে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ এবং আউয়াল হোসেন জানায়, তারা জমি থেকেই মিষ্টি আলু ওজন করে নিয়ে ৫শ টাকা মণ দরে কিনছেন। এ আলু কিনে তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাও, দিনাজপুর, নাটোর এবং রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আড়ত্গুলোতে সরবরাহ করেন। কমলা সুন্দরী জাতের মিষ্টি আলু দেখতে টুকটুকে লাল এবং কিছুটা কমলার মত রং। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় খাদ্য হিসেবে এবং বিভিন্ন কোম্পানি এগুলো দিয়ে চিপস্ তৈরি করে থাকেন। সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মোঃ শামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, এ মৌসুমে ১৮০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে আরো বেশি জমিতে। কৃষকদের অধিক লাভবান এবং উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সাঘাটা উপজেলায় ২০টি প্রদর্শনী প্লটে কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলু চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে উত্পাদনও ভাল হয়েছে এবং কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছে। তিনি বলেন, রামনগর, কচুয়া ছাড়াও থৈকরেরপাড়া, সাঘাটা, জুমারবাড়ী, হলদিয়া ইউনিয়নের কিছু কিছু গ্রামে মিষ্টি আলু চাষের জন্য জমি উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা এ জাতের মিষ্টি আলুর চাষ শুরু করছে।