শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে দুই বছরের ব্যবধানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ১১ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে। ব্যাংকগুলোর ধারণ করা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম ক্রমাগত পড়তে থাকায় এ লোকসান আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ সুবিধা দিয়ে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর লোকসান কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগ থেকে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার বিপরীতে তিন মাসের প্রভিশন সংরক্ষণের বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো ৫ কিস্তিতে তাদের প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারবে। আর এ প্রভিশন সংরক্ষণ না করে সমপরিমাণ অর্থ আয় হিসাবে দেখাতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে অনেক ব্যাংক বছর শেষে নিট লোকসানের হাত থেকে বেঁচে যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর হাতে পুঁজিবাজারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ছিল। কিন্তু বাজার দর কমতে থাকায় ২০১১ সালের ডিসেম্বরে এসে তা ১২ হাজার কোটি টাকায় নেমে যায়। আর ২০১২ সালের ডিসেম্বর শেষে তা আরও কমে ৯ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর নিট লোকসানও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের শেষের দিকে পুুঁজিবাজারে ধস শুরু হওয়ার পর অনেক ব্যাংক শেয়ার ছেড়ে দেয়। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যায়। পুঁজিবাজারে মুনাফার অংশ থেকে নগদ লভ্যাংশ দিতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ অর্থ থেকে যায়। কিন্তু পুঁজিবাজারে লোকসানের ধারা অব্যাহত থাকায় ২০১১ সালে ব্যাংকগুলোর মুনাফার প্রবৃদ্ধি কমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ব্যাংকগুলোর মুনাফা দেখে নিশ্চিত হয় যে, বেশিরভাগ ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নেতিবাচক। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর লোকসানের অংশ মুনাফা থেকে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে লোকসানের শতভাগ প্রভিশন হিসাবে সংরক্ষণ করতে হয়। আর প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।
তবে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উপায় বের করে দেয়। যেসব ব্যাংকের পুঁজিবাজারে নিজস্ব বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওইসব ব্যাংকের তিন মাসের প্রভিশন সংরক্ষণের ওপর বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। অর্থাত্ বছর শেষে তিন মাসের প্রভিশন সংরক্ষণ না করে পরে পাঁচ কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাত্ একটি ব্যাংকের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। পরের তিন মাসে অর্থাত্ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হতো আরো ২০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তিন মাসের ২০ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করা থেকে ছাড় দেয়ার পর ওই ২০ কোটি টাকা প্রভিশন না রেখে আয় হিসাবে দেখাতে পারবে। এতে অনেক ব্যাংক লোকসানের হাত থেকে বেঁচে যাবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা।
