বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উদযাপিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, জাতির উদ্দেশে দেয়া রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বাণী পড়ে শোনানো হয়। বাসস জানায়, নয়া দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন হাইকমিশনার তারিক এ করিম। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পর জাতির উদ্দেশে দেয়া রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এসময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় কমিশনের মৈত্রী হলে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সারিতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসি বাংলাদেশি নাগরিকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশি নাগরিকগণ চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন বাহান্ন-র ভাষা সৈনিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত ভাষা গবেষণা সংক্রান্ত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেয়ার উপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশি শিশু-কিশোররা ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি এবং ভাষার গান পরিবেশন করে। চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে একুশের বইয়ের এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি বই প্রবাসি বাংলাদেশি বিশেষত শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
ব্রুনাইয়েও বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে হাইকমিশন চত্বরে ব্রুনাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. আব্দুল হাই জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরে দিবসটির গুরুত্ব তাত্পর্য তুলে ধরে হাইকমিশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ কমিউনিটির শিশুরা একুশের ছড়া ও কবিতা পাঠ করে এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন হাইকমিশনার মো. আব্দুল হাই।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মিলনায়তনে সাময়িক ভিত্তিতে শহীদ মিনার স্থাপন করে ৬১তম শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সরকারিভাবে পালন করেছে বাংলাদেশ মিশন।
নিউইয়র্কে মিশন কার্যালয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একুশের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন।
অনুষ্ঠানে ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ববাসীর কাছে অহংকারের দিন। তিনি বলেন, এ বছর সম্মিলিত জাতিসংঘ তাদের ওয়েবসাইটে আমাদের অনুরোধে জাতিসংঘের ৬টি ভাষার সাথে বাংলাকে স্থান দিয়েছে এবং নিউইয়র্ক সিটি গেল নির্বাচনে অন্য ভাষার সাথে বাংলায়ও কিভাবে ভোট দিতে হবে তা সংযোজন করেছে।
শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানমালার শুরুতেই ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে একুশের উপর লেখা প্রথম কবিতা পাঠ করেন মিশনের কর্মকর্তা মোঃ আইনুজ্জামান। এরপর রাষ্ট্রপতির বাণী মিশনের ইকোনমিক মিনিষ্টার বরুণ দেব মিত্র, প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্রি. জে. আনোয়ারুল মোমেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন মিশনের কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন রাষ্ট্রদূত ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, ভুটানের রাষ্ট্রদূত, শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত, ইউনেস্কো প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের বেতারে বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান পরিচালক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে শ্রীলংকান ক্ষুদে শিল্পীরা মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে আমেরিকান নাগরিকদের সংগঠন ‘চিন্ময় সেন্টার’ এর শিল্পীরা বাংলায় গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের উপর মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক পরিবেশন করা হয়।
এতে অংশ নেন হারুন, চঞ্চল ও আরও অনেকে। আবৃত্তি করেন শামা সেলিম, কাউন্সিলর সারোয়ার মাহমুদ, কাউন্সিলর লোকমান হোসেন এবং সানজিদা বেগম। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো রচিত বাংলা ভাষা বিষয় প্রামাণ্য চিত্র পরিবেশিত হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং পরিচালনা করেন মিনিস্টার (কালচারাল) অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ফারুক হোসেন ও সামিয়া আঞ্জুম।
