সাতক্ষীরার তালায় হাজার হাজার মানুষের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি’র অর্থায়নে সিডিএমপি’র পুকুর খনন প্রকল্প জলাবদ্ধ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। একই প্রকল্পের আওতায় সাত কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজও রয়েছে শেষ পর্যায়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কানাইদিয়া এলাকার মানুষের আর্সেনিকমুক্ত ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে এবং জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করতে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৫ টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয় সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি)। ইউএনডিপি’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ ও ২৫০ ফুট প্রস্থের একটি পুকুর এবং সাত দশমিক ২৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে এ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। পুকুর খনন কাজ শেষ হলে উপজেলার কানাইদিয়া ও চর কানাইদিয়া গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ সুপেয় পানি পান করতে পারবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২০ বছর আগে এলজিইডি’র বাঁধের উপর পুুনঃনির্মিত প্রায় সাড়ে সাত কিঃমিঃ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি কানাইদিয়া, চর কানাইদিয়া, কৃষ্ণকাটি, আটঘরা ও জেঠুয়া গ্রামের প্রায় ১৮ হাজার লোক স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে অনেকটা রক্ষা পাবে।
সরেজমিনে গেলে কানাইদিয়া গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী, কালাম শেখ, ডাঃ আনারুল, শেখ আলী আকবর. বাহারুল ইমলাম, রেহানা বেগমসহ অনেকেই বলেন, সিডিএমপি অত্র এলাকায় যে কাজ করছে তা প্রশংসনীয়। উক্ত কাজ সম্পন্ন হলে আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে।
তালা উপজেলার জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, অত্র এলাকায় খাবার পানি সংকটের পাশাপাশি রয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। পুকুর খনন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে। উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই এলাকার মানুষের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য পুকুর খনন জরুরী দরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার ৯০ ভাগ মানুষ আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করতে পারবে।
দ্বীপচরবাসীদের বসতভিটায় শাকসবজি চাষে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মো. তসলিম উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দর্লভপুর ইউনিয়নে দ্বীপচরবাসীদের “বসতভিটায় উন্নত ও উপযুক্ত প্রযুক্তিতে শাকসবজি চাষ এবং দলীয় বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার ও রবিবার অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৭৫ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।
এক্সেঞ্জার’র অর্থায়নে ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’র কারিগরী সহযোগিতায় গ্রামীণ বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থা (জিবাস) পরিচালিত নদী ও জীবন-২ প্রকল্প’র আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল ফারুক প্রধান প্রশিক্ষক হিসাবে এই সব নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউল হক, দুরুল হোদা, হুমায়ুন কবীরসহ জিবাস নদী ও জীবন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহাবুব জামান তপন, সুপারভাইজার মোক্তার হোসেনসহ অন্যরা প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
প্রশিক্ষণে বসতভিটায় উন্নত ও উপযুক্ত প্রযুক্তিতে শাকসবজি চাষ এবং দলীয় বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও প্রশিক্ষণে দ্বীপচরবাসীর শাকসবজি চাষের চাহিদা নেয়া হয় এবং বীজ বপনের প্রস্তুতির জন্য অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে উপজেলা কৃষি অফিসার জিবাস নদী ও জীবন-২ প্রকল্প’র দ্বীপচরবাসী অংশগ্রহণকারীদের বসতভিটায় শাকসবজি চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
জিবাসের নির্বাহী পরিচালক তরিকুল ইসলাম টুকু বলেন, অবহেলিত দ্বীপচরের পিছিয়ে পড়া নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বসতভিটায় শাকসবজি উত্পাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারবে।
