রাণীনগরে বন্দোবস্ত বহির্ভূত দীঘির ইজারা, এলাকায় অসন্তোষ

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ১৭:০১

নওগাঁর রাণীনগরে খাস খতিয়ান ভুক্ত একটি দীঘি লিজ প্রদান করায় মিরাট ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের দীঘির অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ওই গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে ০১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৩৫৩৩ দাগ নম্বরে এক একর ৪১ শতাংশের একটি দীঘি রয়েছে। দীঘিটির কোনো পাড় নেই। ওই গ্রামের শুকুর আলীর সরদার, শিশির কুমার ঘোষসহ আটজন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের জমি এই দীঘির পাড় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীঘিটি দীর্ঘদিন যাবত গ্রামের কয়েকজন মানুষ সহ: অংশীদারিত্বে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। 

মিরাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহের আলী বলেন, আমরা টেন্ডারের ভিত্তিতে দীঘি ইজারা পেয়েছি। তবে গ্রামবাসীর আবেদনের ভিত্তিতে এখনও আমরা সেখানে মাছ চাষের অনুমতি পাই নাই। প্রশাসন যদি চায় নিয়ম মেনে এটি গ্রামবাসীর কাছে হস্তান্তর করবেন তাহলে অবশ্যই তা আমরা ছেড়ে দেবো।

সাবেক ইউপি সদস্য এছাহক আলী বলেন, সরকারি রেকর্ডে বলা আছে যে এই দীঘিটি বন্দোবস্ত বহির্ভূত। শুধুমাত্র গ্রামবাসীরা এই দীঘি থেকে পানি সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং মাছ চাষ করে তা আশেপাশের মানুষ ভোগ করতে পারবেন। 

বর্তমান স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, আমরা গ্রামবাসীরা সহ: অংশীদারিত্বে দীঘিটি ইজারার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন দিয়েছি। দীঘিটি ইজারা দিলে গ্রামবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হবে। দীঘিটি গ্রামবাসীদের হক।  

আরও পড়ুন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টুকটুক তালুকদার বলেন, বর্তমানে এই দীঘি মৎস্যজীবী সমিতির নামে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তবে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে নতুন আবেদন পাওয়ার কারণে বর্তমানে ওই দীঘিতে মাছ চাষ বন্ধ রাখা হয়েছে। সহ: অংশীদারিত্ব হিসেবে আবেদন করলে পুকুর কিংবা দীঘি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারাই পাবেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/অনি