বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৯
“তত্ত্বাবধায়ক সরকার” পদ্ধতি স্থায়ীভাবে সংবিধানে সংযোজন প্রয়োজন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনে দিন দেশ এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের জনগণ সংশয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আগামী দিনগুলোর কথা ভেবে সাধারণ জনগণ যেন ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিরোধী দলের আন্দোলন জোরদার হচ্ছে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ইস্যুতে। সরকারও আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও তার দলীয় লোকদের উস্কে দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার চাপ দিচ্ছে, অন্যথায় চাকরি ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈতিক আচরণের কারণে দেশের শাসনযন্ত্র যেন সরকার দলীয়দের ইচ্ছেমত পরিচালিত হচ্ছে। যার শিকার হচ্ছে এ দেশের আপামর জনগণ। কি বিচিত্র দেশে বাস করি আমরা! ভাবতে আজ ভীষণ কষ্ট হচ্ছে! লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন এ দেশে কতটা স্বাধীন আমরা? রাজনীতি আজ অসাধু, কুশিক্ষিত, অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের দখলে। দেশের মানুষ কখনো স্বস্তি পাবে না। এ দেশ কখনো দুর্নীতিমুক্ত হবে না, যদি না এদের হাত থেকে রাজনীতিকে রক্ষা করা যায়। যে “তত্ত্বাবধায়ক সরকার” প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকারি দল ১৯৯৬ সালে দেশে লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন করে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে অনেক রক্তের বিনিময়ে, দেশের অর্থনীতির অনেক ক্ষতিসাধন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছে। আবার সেই দলই জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আইন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ পদ্ধতি বাতিল করল। ক্ষমতায় থাকার কারণে তাদের কাছে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ এখন আর ভালো লাগছে না। নাসির উদ্দিন (মুন্না) বিএসএস (শেষবর্ষ) চাটখিল মাহবুব সরকারি কলেজ চাটখিল, নোয়াখাল উদার গণতন্ত্রের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার বিকল্প নেই স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আমরা অপেক্ষা করছি রাজনীতির ভবিষ্যত্ কবে উদার হবে; সুষ্ঠু হবে এবং শান্তিপূর্ণ হবে। তবে এভাবে অপেক্ষা করতে করতে হয়ত দিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হবে না। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সরকার ও বিরোধী উভয় দলের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম। বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করা এবং কোন খারাপ কাজ হলে তার সমালোচনা করা। অথচ বাংলাদেশের বিরোধী দল বিরোধিতা করছে সরকারি দলের প্রতিটি কাজে। যা এদেশের সুষ্ঠু রাজনীতির অন্তরায়। আর তাই বাংলাদেশের বর্তমান সহিংস গণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধ হয়ে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করবে এমন দিনের অপেক্ষা বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের। তারপরেও কেন জাতির স্বপ্নকে রাজনীতিবিদরা বুঝতে চান না। একপক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করছে না। আমরা সাধারণ মানুষ কার কথায় বিশ্বাস করব ? কেউ কারো সাথে সরাসরি বসে আলোচনা করছে না। এমনকি বিরোধী দল সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে তাদের মতামত জানাচ্ছেন না। আর এই বিভাজনের রাজনীতি গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত ইস্যু হচ্ছে দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। কিন্তু এই নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে বিভিন্ন বিরোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সংকট। এই সংকট কিভাবে সমাধান হবে তা নিয়ে আজ দেশের মানুষ সংকিত। বিরোধী দলেরে ইচ্ছা তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। অপরপক্ষে বর্তমান সরকারের ইচ্ছা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। এই অবস্থায় একটাই পথ খোলা তা হলো আলোচনা; আর তাই উভয় পক্ষের আন্তরিক আলোচনার মধ্য দিয়েই সম্ভব উদার গণতন্ত্রের চর্চা। এই উদার গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তাসলিমুল আলম তৌহিদ অনার্স (সম্মান) প্রথম বর্ষ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা সম্ভব দীর্ঘদিন বঞ্চনার ফলে জনমনে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ক্ষোভ সিন্ধু হয়ে ধরা দেয়, যার সর্বশেষ সংযোজন শাহবাগ স্কোয়ার। কেউ ক্ষমতায় যেতে আর কেউ থাকতে যুদ্ধাপরাধের নেতৃত্ব দানকারী দলের সাথে আপোষ করতেও আমাদের দেশে দেখা যায়। যার ফলশ্রুতিতে জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। শাহবাগের ঘটনা সত্যি সত্যিই স্বপ্ন দেখাচ্ছে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিন নিশ্চয়ই আমরাও আমাদের রাজনীতি ও সমাজনীতিতে উদার গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু করতে যাচ্ছি। সচেতনতা ও বিবেকের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সহনশীল, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা হবে এটা এখন অনেকটাই সম্ভব বলে মনে হয়। প্রয়োজন সময়ের দাবি পূরণ করে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ। মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু) বিএ শেষবর্ষ পরীক্ষার্থী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে, সেই সাথে জনগণের ভাগ্যও বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক যে অবস্থা তাতে স্বাধীন এই বাংলাদেশে গণতন্ত্র কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা কেউই জোর গলায় বলতে পারবে না। তারা বার বার প্রতারিত হয়েছে। ভোট এলেই সকল রাজনৈতিক নেতাদের মুখেই শুনা যায় বড় বড় কথার বুলি। আর ক্ষমতায় গেলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় দুর্নীতি নিয়ে। আর কিভাবে আরও বেশি ক্ষমতায় থাকা যায় তা নিয়ে নানা ফন্দি আঁটে। আর এতে জনগণের দুর্দশা চরমে পৌঁছায়। বর্তমানেও আমাদের রাজনীতি ঠিক তেমনই একটা অবস্থায় দাঁড়িয়ে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় তাদের ক্ষমতা আগামী মেয়াদেও ধরে রাখতে। অন্যদিকে বিরোধী দল চায় ক্ষমতা। এই কারণেই দুই দলের দ্বন্দ্বে দেশ আজকে এত অস্থিতিশীল। এমন অবস্থায় যতক্ষণ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একটি মীমাংসা না হবে ততক্ষণ দেশের জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণতো এরকম দেশ চাই না। আমরা চাই একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা চাই বদলে যাক আমাদের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি। শামীম মোহাম্মাদ মাসুদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (৩য় বর্ষ) সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা।