মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (স.) কটূক্তিকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বরিশালের তৌহিদী জনতা। গতকাল শনিবার নগরীতে ওলামায়ে কেরামসহ মুসুল্লিদের মহাসমাবেশে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্ত ব্লগারদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ঢাকামুখী লংমার্চ, অবস্থান ধর্মঘট, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। সমাবেশ থেকে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় ‘নাস্তিক প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিলের কারণে আজ বরিশাল বিভাগের কোথাও হরতাল হবে না বলে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এদিকে মহাসমাবেশকে কেন্দ করে নগরীতে জামায়াত ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও নগরজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হননি সমাবেশে আসা ইসলামী দলগুলোর সিংহভাগ নেতা-কর্মী।
‘জামায়াতের ইশারায় আন্দোলনে নামিনি’
সকাল ১০টায় নগরীর ফজলুল হক এভিনিউতে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও পাড়া-মহল্লা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত সমাবেশে চরমোনাইর পীর সাহেবের ছোট ভাই মুফতি হজরত মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ‘জামায়াতের ইশারায় আমরা আন্দোলনে নামিনি। আমরা তৌহিদী জনতা এখানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদকে (স.) কটূক্তিকারীর ফাঁসির দাবিতে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জামায়াত শক্তিশালী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আইন করলেও দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো আইন করেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘শেখ সাহেবকে (বঙ্গবন্ধু) নিয়ে কেউ কটূক্তি করলে তার বিচার হবে আর আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার বিচার হবে না- এটা দেশের মানুষ মেনে নিবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, নব্য নাস্তিকরা মসজিদ ও মাদরাসা শিক্ষা বন্ধ করতে চক্রান্ত করছে। সরকার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এসব মুরতাদ, নাস্তিকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো মুসলমান ঘরে ফিরে যাবে না।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরুর রহমান বেগ, মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা মান্নান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম শাহজাহান প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় মাহামুদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব।
একদিকে মোনাজাত অন্যদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে মঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল না করে মোনাজাত পরিচালনার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ঘোষণা উপেক্ষা করে জামায়াত-শিবিরসহ সমাবেশে থাকা বিএনপি সমর্থক কতিপয় যুবক লাঠিসোঁঠা নিয়ে সদর রোডে অবস্থান নেন। সেখানে মোতায়েন থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাবের উপর হামলার জন্য তারা বারবার মুসুল্লিদের ডাকতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা নিজেরাই পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের পর পুরো সদর রোড ফাঁকা হয়ে যায়। পরে সদর রোড ও গীর্জা মহল্লা এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে পুলিশের উপর জামায়াত-শিবির কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও জামায়াতের মধ্যে যখন এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল তখন ফজলুল হক এভিনিউর মঞ্চে মোনাজাত চলছিল।
এদিকে সমাবেশকে কেন্দ করে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সকাল থেকেই নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গণজাগরণ মঞ্চসহ অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সদর রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দু’শ জনকে আসামি করে মামলা
এদিকে মহাসমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় দু’শ জনকে আসামি করে পুলিশ মামলা করেছে। কোতয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত ঐ মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে দেড় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি দেখিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় গতকাল সংঘর্ষের সময় গ্রেফতারকৃত এক বিএনপি সমর্থককে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
