বিক্রির শীর্ষে উপন্যাস, এগিয়ে আছেন হুমায়ূন, জাফর ও মিলন

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৩
অমর একুশের বই মেলায় বিক্রির শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। তবে বেশি প্রকাশিত হয়েছে কবিতার বই। গত দুই দশকের মতো এবারেও বিক্রিতে লেখকদের মধ্যে এগিয়ে আছেন প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। সেই সাথে তার পুরনো উপন্যাস ও বিভিন্ন সংকলন গ্রন্থগুলোও বিক্রি হচ্ছে মুড়ি মুড়কির মতো। ২৩ দিনে উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ৪৬৩টি। মেলায় অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, ইত্যাদি, সময়, মাওলা ব্রাদার্স, তাম্রলিপি, কাকলী প্রকাশনীর স্টলে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই বোঝা যায়, পাঠকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। প্রতিদিনই মানুষের দীর্ঘ সারি এসব স্টলে। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পরেই বিক্রির শীর্ষে আছেন তারই ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বই। এর পরেই আছেন ইমদাদুল হক মিলন, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, আনিসুল হক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের নতুন ও পুরোনো উপন্যাসগুলো। বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৩ দিনে নতুন বই এসেছে ২৬০১টি। এর মধ্যে কবিতার বই বেরিয়েছে ৬৪৮টি। কিন্তু কবিতার এত বই থাকলেও, তা কেনার পাঠক তেমন একটা নাই বলেই প্রকাশকরা জানান। এ প্রসঙ্গে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘বিক্রয়ের চিত্র দিয়ে গ্রন্থের ভালো মন্দ বিচার করা ঠিক নয়। অসংখ্য নতুন লেখক আসছেন। তারা লিখতে লিখতে জায়গা করে নেবেন। এমনটিই হয়।’ আজ বাংলা একাডেমী পুরস্কার : আজ রবিবার বিকেলে ২০১২ সালের বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ বছরের বাংলা একাডেমীর পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায়: সানাউল হক খান ও আবিদ আনোয়ার, কথাসাহিত্যে হরিশংকর জলদাস, প্রবন্ধে সনত্কুমার সাহা, গবেষণা খোন্দকার সিরাজুল হক, শিশু সাহিত্যে মাহবুব তালুকদার, অনুবাদ সাহিত্যে ফখরুল আলম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মাহবুব আলম এবং বিজ্ঞান/প্রযুক্তি/পরিবেশ সাহিত্যে তপন চক্রবর্তী। প্রকাশকদের সংবাদ সম্মেলন : অমর একুশে বইমেলার সময় বাড়ানোর দাবিতে প্রকাশকরা আজ রবিবার বিকেল ৪টায় মেলার লেখক আড্ডায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। নজরুল মঞ্চের চিত্র : গতকাল শনিবার মেলার ২৩তম দিনে ১৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। এর মধ্যে চলচ্চিত্রকার খালিদ মাহমুদ মিঠু উন্মোচন করেন আকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত দিপংকর দিপকের গল্পগ্রন্থ ‘বুনো কন্যা’ ও শুভ্র প্রকাশ থেকে প্রকাশিত অরণ্য পাশার উপন্যাস ‘চোরাবালি শহরে’ বই দুইটির মোড়ক। ফারিয়া প্রেমার কাব্যগ্রন্থ ‘অবমানবের শার্সি’র মোড়ক উন্মোচন করেন কবি আসাদ চৌধুরী ও কবি ফারুক মাহমুদ। এদিন আগামী প্রকাশনীর সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। মোড়কগুলো উন্মোচন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রবিউল হোসেনের ‘জীবন ও মানুষ : ব্যাংক ও ব্যাংকিং’, ড. মুনীরউদ্দিন আহম্মদের ‘সব ওষুধ নিরাপদ নয়’, ডা. শেখ গাউস মিয়ার ‘বাংলাদেশের উত্সব ও মেলা’, মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ‘যামিনীর যাপিত জীবন’, মিলি সুলতানার ‘যুদ্ধশিশু’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘নটে গাছটি’ ও আশেক মাহমুদের ‘কর্পোরেট গণমাধ্যম বিশ্বায়ন’। একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আশরাফ আহমেদর ‘কলাছলে বলা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন। নতুন বই : বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল শনিবার মেলার ২৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ৯৬টি। বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে বেরিয়েছে ফাতেমা জোহরা হক এর ‘দ্বৈরথে যুগলবন্দী’, মমতাজউদদীন আহমদ এর ‘চেনা অচেনা নিউ ইয়র্ক’, সজাগ প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে আব্দুল মতিন এর ‘আমার এনজিও দর্শন’, বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে এসেছে জাহীদ রেজা নূর এর ‘মেয়ে’, মফিদা আকবর এর ‘ভূতের বাড়ি নিমন্ত্রণ’, সাহিত্য মালা প্রকাশনী থেকে এসেছে ডা. বিমল কুমার আগারওয়ালা এর ‘ডায়াবেটিস নিয়ে নানান কথা’, পূর্বা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে বালার্ক চাণাষ এর ‘শোকার্ত ভালোবাসা’, স্বরবৃত্ত প্রকাশনি থেকে এসেছে লাভলী বায়েজীদ এর ‘অনুভবে অনুক্ষণ’বইগুলো। মূল মঞ্চের আয়োজন : অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে শনিবার সকালে মেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. করুণাময় গোস্বামী। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।