লুণ্ঠিত দশ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র আজো উদ্ধার হয়নি

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৭
ডাকাতি হওয়া লাইন্সেকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের বেশিরভাগই পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। বেহাত হওয়া লাইন্সেকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্নভাবে বেহাত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ডিষ্টিলারি রোডের মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির মো: আব্দুল হামিদের বাড়ি থেকে লাইসেন্সকৃত দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র ডাকাতি হয়। ডাকাতি হওয়া এই দুই আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আব্দুল হামিদের বাড়ির দোতলার একটি জানালার গ্রিল কেটে ৬/৭ জন ডাকাত প্রবেশ করে। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩ লাখ টাকা, পয়েন্ট থ্রি টু বোরের একটি রিভলবার ও ডাবল ব্যারেলের একটি বন্দুক এবং ২০ রাউন্ড রিভলবারের গুলি লুট করে। লুণ্ঠিত দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সকৃত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন মোল্লা জানান, স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতির পাশাপাশি লাইসেন্সকৃত দুই আগ্নেয়াস্ত্র লুট করায় ধারণা করা হচ্ছে এই চক্রটি বহু আগে থেকেই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। এ ব্যাপারে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে ফকির মো: আব্দুল হামিদ লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। তবে তিনি ঐ আগ্নেয়াস্ত্র গত ১০ বছর ধরে ব্যবহার করেন না। অনেকটা অকেজো অবস্থায় ঐ দুই আগ্নেয়াস্ত্র তার বাসায় পড়েছিল। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতে সেবা ক্লিনিকের মালিক আবুল হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির সময় তার লাইসেন্সকৃত পয়েন্ট টু টু বোরের রিভলবারটি লুট করে। গত বছরের ৪ জুন দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইর এলাকা হতে সাইফুল ইসলাম মামুন, আল-আমিন, আকবর আলী লালু ওরফে রনিকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাদের কাছ থেকে ১ টি কালো রংয়ের বিদেশি পয়েন্ট টু টু বোরের রিভলবার উদ্ধার করে। উদ্ধার করা রিভলবারটি জার্মানির আরমানিস কোম্পানির তৈরি। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা ডাকাতি করার লাইন্সেকৃত রিভলবারটি রাজধানীতে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে। গত বছরের ৫ মার্চ গুলশানে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলীর কাছ থেকে ছিনতাই করার সময় ঐ রিভলবারের গুলিতে তিনি নিহত হন বলে তারা জানান। সূত্র জানায়, কারো বাড়িতে লাইন্সেকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ডাকাতি হলেই তা উদ্ধার নিয়ে পুলিশের অনীহা রয়েছে। একজন ক্ষুদ্রাস্ত্র বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডাকাতি বা চুরি হওয়া লাইন্সেকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি। কারণ, এসব আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির মতো বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। পুলিশ রেজুলেশন অব বেঙ্গলের (পিআরবি) ২২৫ বিধি মতে, প্রতিটি থানার ওসির নিজ নিজ থানার আওতাধীন সব ব্যক্তিগত অস্ত্র ও গোলাবারুদের দোকান কমপক্ষে ১৫ দিন অন্তর একবার পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। মহানগরীর ওসিরা পিআরবি ২২৫ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব হয় না। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৯টি থানায় যে ২৩৩৮টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য রয়েছে তার মধ্যে বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, লাইসেন্স নবায়ন, লাইসেন্সধারীদের ঠিকানাতেও রয়েছে গরমিল। পুলিশ বিভিন্ন সময় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে দেখতে পান তার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ওই সব অস্ত্র অবৈধ কাজে ব্যবহূত হয়ে আসছে। অনেক সময় বৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে ভাড়া দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।