রাজধানীর পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ী ও দুই পুলিশসহ ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৯৬ জন জামায়াত-শিবিরের কর্মী গ্রেফতার করেছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বাবুবাজার এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ইসলামপুরের দিকে গেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিছিলকারীরা ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। জামায়াত-শিবিরের হামলার মুখে পুলিশ গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। কার্তিক রায় (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নীচ থেকে জামায়াত-শিবিরের ৭/৮শ কর্মী হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ইসলামপুরের রাস্তা দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের দিকে যেতে থাকে। ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মিছিলটি পৌঁছালে সেখানে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে মিছিলকারীরা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। এসময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ফাঁড়ি থেকে বের হয়ে যান। মিছিলকারীরা পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে বংশাল ও কোতয়ালি থানার অতিরিক্ত পুলিশ দুই দিক থেকে এসে মিছিলকারীদের ওপর রাবার বুলেট ছুঁড়তে থাকে। এসময় জামায়াত-শিবির মিছিল থেকে অন্তত ২০/২৫টি ককটেল নিক্ষেপ করে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকারীরা পুলিশ ফাঁড়ির আশেপাশে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে পালাতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ টিয়ারসেল ছুঁড়লে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৯৬ জনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, মিছিলকারীরা ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তিন দিক থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেখানে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও টিয়ার সেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য জামায়াত-শিবিরের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
