দুনিয়া কাঁপানো ‘গ্যাংনাম স্ট্যাইল’ ভিডিওটি এখনও নিজের জনপ্রিয়তার জায়গাটি বেশ পাকাপোক্তভাবে ধরে রেখেছে। তবে সম্প্রতি তারুণ্যের গ্যাংনাম জ্বর ছাড়তে না ছাড়তেই জন্ম হয়েছে ‘হার্লেম শেক’ নামের একটি ভাইরাসের। ধারণা করা হচ্ছে এই ভাইরাস ছাড়িয়ে যাবে গ্যাংনাম স্টাইলের জনপ্রিয়তাকেও।
লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
হার্লেম শেক মূলত অ্যালবি ইন হার্লেম ড্যান্স হিসেবে পরিচিত। এই নাচ ১৯৮১ সালে প্রথম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শুরুর সময় তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি এই নাচটি নিয়ে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে ‘লেটস গেট ইন’ গানটির মিউজিক ভিডিও করা হয়। সেই সময় থেকে জনপ্রিয়তার শুরু হয় ড্যান্স স্টেপটির।
ইথিওপিয়ার একটি এলাকায় এক্সারসাইজ অর্থাত্ ব্যায়ামের এক রকম তরিকাও বলা যায় একে। মূলত সেখান থেকেই ব্যাপারটির শুরু। ধীরে ধীরে সেই ড্যান্স স্টেপগুলো বদলে যায়। যোগ করা হয় নানা ধরনের কলা কৌশল। হার্লেম শেক ড্যান্সের চর্চা শুরু হয় আমেরিকাতেও।
সম্প্রতি আবারও এই ড্যান্স যেন পুনরায় তার জীবন ফিরে পেয়েছে। এই নতুন ধরনের নাচ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা দুনিয়াকে নাচাতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় এক দল কিশোর এই কোমর দোলানো নাচটির ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে। সেটা খুব বেশি আগের কথা নয়। চলতি মাসের দোসরা ফেব্রুয়ারি আপলোড করা হয় ভিডিওটি। দুই সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় ভিডিওটি। এরই মধ্যে ৩১ সেকেন্ডের ক্লিপটি এক কোটি বিশ লক্ষ বার ক্লিক করা হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে শুরু হয়েছে সেই নাচের নকল করা ভিডিওর প্লাবন। বিগত ভ্যালেন্টাইন্স ডে, অর্থাত্, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চল্লিশ হাজার নকল! সেসব ভিডিওগুলোও এর মধ্যে এক কোটি ৭৫ লক্ষ বার ভিজিট করা হয়েছে।
যেভাবে ব্যাপারটি শুরু হয়
মূল নাচটির সাথে জড়িত ছিল পাঁচজন অস্ট্রেলীয় কিশোর, যাদের মূল পেশা বা নেশা হলো স্কেটবোর্ডিং, তারা এক বৃষ্টির দিনে কাজ না পেয়ে ব্রুকলিনের ডিজে বাউয়ারের ‘হার্লেম শেক’ নামধারী একটি গান বাজিয়ে তার সঙ্গে নাচতে শুরু করে এবং স্কেটবোর্ডাররা যেহেতু তাদের সব ধরনের ‘মুভ’-এর ভিডিও তুলে রাখেন পরবর্তীতে দেখার জন্য। সেহেতু সেই এই নাচের ভিডিও তোলাও বাকি ছিল না। শুধু এই ভিডিও সংরক্ষণ করেই ক্ষ্যান্ত দেননি তারা। আবার ইন্টারনেট প্রজন্মের রীতি অনুযায়ী, ভিডিও যখন তোলা হলো, তখন নেটে সেটা আপলোড করাও চাই।
তারপর কে বা কারা সেটা নেটে দেখে ফেললেই হলো! সঙ্গে সঙ্গে লিংক যাবে চেনা-অচেনা সকলের কাছেই। শেয়ার করা হয় ফেসবুকে, টুইটারে এবং থাম্বেলারের মতো সোস্যাল সাইটগুলোতে। এরপর অন্যেরাও ক্লিক করবে, লিংক পাঠাবে :যাকে বলে ‘গোয়িং ভাইরাল’, বলা যায় অনেকটা ইন্টারনেট সুনামির মতো। ঠিক যেভাবে ছড়িয়েছিল গ্যাংনাম স্টাইলের ভিডিওটি। একইভাবে ছড়িয়ে গিয়েছে নব্য এই ভিডিওটিও। হয়তো কিছুদিন পরই দেখা যাবে অনেক বড় বড় সেলিব্রেটিরাও এই ড্যান্স স্টেপের সাথে মিলিয়ে নাচা শুরু করেছেন। গানটা ডিজে বাউয়ারের তবে নাচের আইডিয়াটা প্রথম আসে ফিলিদ ফ্র্যাংক নামধারী এক ভিডিও ব্লগারের মাথায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দ্য-সানি-কোস্ট-স্কেট গোষ্ঠীর ভিডিওটি প্রথমে ভাইরাল হয়, তারপর বিশ্বব্যাপী ইনফেকশন ছড়ায়।
এই ব্যাপারে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতোমধ্যে প্রতিদিন হাজার-হাজার নতুন হার্লেম শেক ক্লিপ আপলোড করা হচ্ছে। কাজের জায়গায়, খেলার মাঠে, সৈন্যদলে, ট্রেনে, বাসস্টপে, সর্বত্র মানুষ নাচছে—তবে গ্যাংনাম স্টাইলে নয়, হার্লেম শেক স্টাইলে।
আরও মজার ব্যাপার হলো যে, অধিকাংশ ভিডিওতেই তারা আজব সব জামাকাপড় পরা। আর সেসব জামাকাপড়ের সাথে মিল রেখে সব ভিডিওই শুরু হচ্ছে মুখোশ-পরা এক নাচনেওয়ালাকে দিয়ে, যাকে প্রথমে কেউ তোয়াক্কা করছে না। কিন্তু ধীরে ধীরে সকলেই তার সঙ্গে সেই তালে তালে নাচছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাইয়ের গ্যাংনাম স্টাইল ভিডিও ক্লিক হয়েছিল ১৩০ কোটি বারের মতো। এভাবে চললে হার্লেম শেক গ্যাংনাম স্টাইলকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এক কিশোর। সেই ছেলেটিও ছিল এই ভিডিওতে।
