প্রজন্মের ব্লগার

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৬
ব্লগ হলো মুক্তচিন্তার স্থান। মননশীল মানুষেরা ব্লগের মাধ্যমে নিজের মুক্তচিন্তার প্রকাশ ঘটায়। শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ আরও নানা বিষয়ে ব্লগের মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেন ব্লগাররা। আবার জাতীয় স্বার্থের জন্য ব্লগের মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানো যায় নিজের কথা। আমাদের এবারের আয়োজনে উঠে এসেছে এই প্রজন্মের কয়েকজন ব্লগারের নিজস্ব ভাবনা। ফা রু ক ও য়া সি ফ অনলাইন ওয়েব লগ বা ব্লগ হলো মুক্তচিন্তার ময়দান। এখানে সবাই কোনো বিষয় সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করতে পারেন। দুনিয়ার সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন নিজের চিন্তাটি। মনকে মনের কাছে, চিন্তাকে অপরের কাছে পৌঁছানোর জন্য ব্লগিংয়ের শুরু। প্রথম নিজের মধ্যে ব্লগ লেখার তাগিদ অনুভব করেন ২০০৬ সালে, মনের জমাট কথার ভার কমাতে। সেই থেকে ব্লগিং শুরু। নিজের কোনো ব্লগ সাইট এখনও নেই, লেখালেখি করেন, উন্মোচন ডট নেট-এ। তিনি সাধারণত কাজের ফাঁকেই ব্লগ লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর তার লেখায় থাকে রাজনীতির বিষয়গুলো আর তার বিশ্লেষণ। তার প্রিয় ব্লগারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে নামটি জানান, তা হলো দিনমজুর। সাথে সবুজ বাঘের কথা মনে পড়ে যায়। প্রথমজন লেখেন জরুরি ও বিশ্লেষণী লেখা, দ্বিতীয় জনের ভাষা ও যুক্তিগুলো হয় অভিনব। ব্লগ লেখা অনেক সময় কাজে লাগে, জনে জনে সংহতি ও বিতর্কের মাধ্যমে সরব একটা অনলাইন নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে। সাধারণত ব্লগকে বলা হয় মুক্তচিন্তার স্থান। কিন্তু তিনি মনে করেন, ‘মুক্তচিন্তা বলে কিছু নেই, মুক্তভাবে প্রকাশও করা যায় না। সমাজ-সংস্কৃতি-জনমত-সহনশীলতা ইত্যাদির কথা চিন্তা করেই সবাই লেখে। দরকার হলো নিজের চিন্তার মধ্যে বেশি বিষয় ও মানুষকে ধারণের চেষ্টা করা। যে চিন্তা বেশি শ্বাসপ্রশ্বাসের সুযোগ দেয় সেই চিন্তাই তুলনামূলকভাবে মুক্ত। কিন্তু ব্লগগুলোতে অল্প কিছু মানুষের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার জন্য পরিবেশটা গরম হয়ে থাকে। ফলে দমনের ভয়ে না হলেও মানসিক পীড়নের ভয়ে অনেকে মুক্তভাবে কথা বলতে পারে না। আমার মনে হয়, ব্লগাররাই ব্লগ পরিমণ্ডলে আরও খোলা হাওয়া নিয়ে আসতে পারেন।’ ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে আগ্রহের একটা ব্যাপার কাজ করে। কোন বিষয়ে লেখা হবে এটা সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার। আর তাই তার লেখা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দুটোই। তিনি তার লেখা সম্পর্কে বলেন, ‘মূলত আমি চলতি কোনো নাড়া দেওয়া ঘটনার বিশ্লেষণ কিংবা প্রতিবাদকেই বেশি গুরুত্ব দিই। তবে ক্রিটিকাল চিন্তাভাবনা নিয়ে লিখবার ইচ্ছা বেশি থাকলেও তার অনুকূল পরিবেশ এখনও হয়নি মনে হয়।’ ব্লগ লেখা কি তার পেশা বা কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা তো ঘটায়ই। ব্লগ লেখা ও পড়া দুটোই তাত্ক্ষণিক ও উত্তেজনাপূর্ণ কাজ। এতে করে অনেক সময় গুছিয়ে কাজ করতে অসুবিধা হয়।’ ব্লগারদের মধ্যে দেখা যায় একদল আরেক দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, এ ব্যাপারটির যৌক্তিকতা নিয়ে বলেন, ‘এটা এসেছে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কুঁদুলে মনোভাব থেকে। বিএনপি-আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভবত আমরা এই উত্তরাধিকার নিয়েছি। অন্যদিকে, অনলাইন মাধ্যমে মানুষ কেবল নাম ও কথা নিয়ে হাজির হয়। নামের অপমান আর কথার অমর্যাদা নিয়ে সবাই মনে হয় তটস্থ থাকে। ‘নাম’ আর ‘কথা’ এখানে তার চিন্তার থেকে ইগোর প্রতিফলন হিসেবে আসে বেশি। সুতরাং ইগোতে ইগোতে খুটখাট লাগা অস্বাভাবিক নয়। অনেকে ব্লগে বিরোধিতার জন্য কড়া যুক্তি ও কটু ভাষাকে জায়েজ মনে করেন। আমি সেটা মনে করি না। ঘৃণার ভাষা নিজেকেও অশান্ত করে। তার সুযোগ প্রতিপক্ষ নেয়। এখন এভাবে যে ঘৃণার ব্যায়াম হলো, অভ্যাস হলো, সেটা পরে আর ছাড়া যায় না। অনেকটা চিত্কার করতে করতে আর স্বাভাবিক গলায় কথা বলতে না পারার মতো। আরেকটা জিনিসও দেখা যায়, মনোযোগ আকর্ষণের জন্য মারমার কাটকাট ভঙ্গিমা নেন অনেকে, এটাও আখেরে সুবিধা দেয় না।’ শৈশবের প্রশ্ন আসতেই কিছুটা নস্টালজিক হয়ে যান তিনি, ‘আমার জন্ম মফস্বলী মধ্যবিত্ত পরিবারে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে নির্জনতা ও চঞ্চলতা দুটোতেই। বিষণ্ন ও আবেগী ছিলাম, লাজুক ছিলাম। পড়তে ভালোবাসতাম। সীমা ডিঙাতাম, বাড়ি থেকে মাঝেমধ্যে পালাতাম। পড়াশোনা বগুড়ায় মাধ্যমিক পর্যন্ত। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে আমি বলি দ্বিতীয় জন্মের আঁতুড়ঘর। এরপরে ঢাকাবাসী হয়ে পৃথিবীর পাঠশালায় ভর্তি হয়েছি। শিখছি এবং ভুলছি, ভালোবাসছি জীবনজগতের সবকিছু আর বাড়াচ্ছি স্মৃতিকাতরতা।’ সেই সাথে জুড়ে দিলেন তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা। যতদূর পারা যায় কাজ, চিন্তা ও জীবনের আস্বাদানে বাকি সময়টাকে বাজিয়ে দেখতে চান তিনি। পৌঁছাতে চান দূরের ওই আবছা পথ যেখানে হারিয়ে গেছে, সেখানটায়। ---- কৌ শি ক আ হ মে দ তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্লগ একটি নতুন ধারা। এই ধারায় গা ভাসিয়ে তারা ছুটে যায় তাদের মনের সেই প্রান্তরে... একা নয়, সবাইকে সাথে নিয়ে যাওয়া যায় সেখানে। বলা যায় মনের সব কথা। আর অনেকেরই সাথে পরিচয়, ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে হয়ে ওঠা যায় আরও বিকশিত। এমনই একজন হলেন, এ প্রজন্মের প্রতিনিধি, কৌশিক আহমেদ। তিনি ব্লগ লেখেন তার নিজের কথা বলতে, সংবাদ জানাতে, শিখতে এবং আরও বিকশিত হতে। প্রথম ব্লগ লেখার তাগিদ অনুভব করেন মূলত ব্লগ দেখার পরে। তার লেখার চর্চাটা ছিল আগে থেকেই। ব্লগে সেটা ট্রান্সফার হয়েছে। তবে তার নিজস্ব কোনো ব্লগ সাইট নেই। মূলত চারটা ব্লগে লিখেন তিনি। সামহোয়্যারইনব্লগ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ব্লগ, আমরাবন্ধু ও উন্মোচন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাতে ব্লগ লিখি। গল্প, কবিতা থেকে শুরু করে এখন সিটিজেন জার্নালিজম ও ব্রডকাস্টিং প্রধান বিষয়।’ সেই সাথে জানান তার প্রিয় কিছু ব্লগারদের তালিকা। লোকাল টক, সবাক, নাফিস ইফতেখার, আলিম আল রাজি—এদের ব্লগ মানেই ক্রিয়েটিভিটির চূড়ান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগ হলো বিকল্প মিডিয়া। প্রচুর পাঠক ও ইন্টার অ্যাকশন। সর্বাগ্রে সংবাদও চলে আসছে। কাজেই হালনাগাদ থাকতে ব্লগই এখন একমাত্র ভরসা। অনেকে মনে করেন, ব্লগকে বলা হয় মুক্তচিন্তার স্থান। এখানে মুক্তচিন্তার সুযোগ কতটুকু সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুক্তচিন্তাই দেখা যায় পুরোপুরি। তবে এখানে একধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে—যা রপ্ত করে নিলে একজন মানুষের স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়।’ বাংলাদেশে ব্লগিংকে ইতিবাচকভাবেই দেখে থাকে এর ব্যবহারকারীরা। সে অর্থে একটা সম্মিলিত প্রয়াস থাকে এর জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড প্রসারে। ব্লগাররা বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে নেমেও নানা ইতিবাচক ও উন্নয়নমুখী মেসেজ জনসাধারণকে পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি পছন্দ করেন, হিউমারাস স্যাটায়ার। সাধারণত এই ধরনের ব্লগে অনেক স্পষ্ট কথা বেশ সহজে বলে ফেলা যায়। অর্থাত্, তিনি তার মনের কথাকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই ব্লগিং কিছু ক্ষেত্রে পেশা বা কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু তার বেলায় হয়েছে ঠিক উল্টোটা। ব্লগ লিখে বরঞ্চ পেশায় সুবিধা পেয়েছেন তিনি। মাঝে মাঝে তার বস বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্লগ লিখতে বলেছেন। ব্যাপারটি সত্যিই অনূপ্রেরণামূলক। ব্লগারদের মধ্যে দেখা যায় একদল আরেক দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, এটার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক একটা প্রতিচ্ছবি। ব্লগে বিভিন্ন মত-পথের মানুষ থাকে, তাদের নানাবিধ উদ্দেশ্য থাকে এবং তা নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হয়। তবে এর মধ্যে একটা ভিন্নতা আছে। ব্লগের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতার জন্য এর বিকাশে এসব দ্বন্দ্ব থেকে নানা রকম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও উদ্ভব হয়েছে। যা ভবিষ্যতে একটা পূর্ণাঙ্গ সাইবার ল তৈরিতে সহায়তা করবে।’ এরপর শৈশব-কৈশোর, পড়াশোনা ও পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল দৌড়বিদ হবো। স্কুল পর্যায় পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। এরপরে উপরের ক্লাসে মনে হলো সাহিত্যিক হবো, পড়াশোনাও ইংরেজি সাহিত্যে। আর এখন স্বপ্ন দেখি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার।’ মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে, তেমনি তারও স্বপ্ন রয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের ৩০ কোটি বাঙালিকে টার্গেট করে লোকাল এরিয়া ওয়েবের একটা জাংশন তৈরি করার, যা ভবিষ্যতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করবে। --- শা র মি ন রে জো ও য়া না ব্লগের সঙ্গে তার পরিচয় বন্ধুর মাধ্যমে। তো একদিন বন্ধু এসে বলল, ‘এই সাইটটা দেখো, এখানে লেখো। সেটা ছিল সামহোয়্যারইন ব্লগের ঠিকানা। বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রথম কমিউনিটি ব্লগসাইট। ভালো লেগে গেল এবং সেই থেকে শুরু। সামহোয়্যারে এখনও ব্লগ লেখা চলছে সমান তালে। কথা বলছিলাম বিশিষ্ট ব্লগার শারমিন রেজওয়ানাকে নিয়ে। ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে তার কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। কিছু আবার লেখেন তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, কোনো হালনাগাদ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। রেজওয়ানা মূলত প্রত্নতত্ত্ব নিয়েই লিখেছেন বেশি। তবে যেকোনো বিষয়েই ব্লগ লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। গান, প্রিয় ব্লগার কারা? আপনার কাছে কেন তার ব্লগ প্রিয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে পিয়াল বলেন, ‘প্রিয় ব্লগারদের তালিকা বিশাল। আর পছন্দের বিষয়টায় আমি গুরুত্ব দিই আসলে বিষয় বৈচিত্র্য, লেখনশৈলী, সেন্স অব হিউমার—এই বিষয়গুলোকে। এই বিচারে ইমনজুবায়ের, ম্যাভেরিক, দূর্যোধন, হাসানমাহবুব, অমি রহমান পিয়াল, নস্টালজিক, দিনমজুর, ফিউশনফাইভ-এর নাম বলতে হয় সর্বাগ্রে। ইমন জুবায়ের নামে একজন খুব পছন্দের ব্লগার গত হয়েছেন একমাস হলো। তার লেখা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তেন তিনি। ব্লগ লেখাটা কি কাজে লাগে নাকি নিছক সময় কাটানো? উত্তরে তিনি বলেন, ‘কিছু ব্লগে ঢুকে সংবাদপত্রের খবরের কাটপেস্ট দেখে লোকে হয়তো বিভ্রান্ত হয়, কিন্তু এর শক্তিটা সম্পর্কে অনেকেই জানে না। এমন অনেক ঘটনা আছে যার মাধ্যমে বুঝা যায় ব্লগ কোনো ফালতু জায়গা না। এর শক্তি আছে মানুষকে প্রভাবিত করার, তাদের একাট্টা করার। মুক্তচিন্তার নামে প্রচলিত বিশ্বাসকে যখন আক্রমণ করা হয় কিংবা স্বাধীনতার অর্জনগুলোকে যখন প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তখন সেটা আর মুক্তচিন্তা থাকে না। তাই ব্লগে এই অপব্যবহারটাই বেশি। তবে রেজওয়ানা ও তার বন্ধুরা ধর্ষণ ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বেশ প্রচারণা চালিয়েছেন। সেটাতে সচেতনতাও তৈরি হয়েছে অনেক।’ ব্লগ কি সচেতনতা তৈরি করে? করলে তা কোন শ্রেণীর মানুষের কাছে বেশি করে? এই প্রশ্নটি বোধকরি অনেকের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রেজাওয়ানা বলেন, ‘দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটা বড় অংশই তরুণ। এদের অনেকে ফেসবুকের লিংক ধরে ব্লগে ঢোকে। গত নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে একটা বড় ভূমিকা ছিল ব্লগের। তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশই প্রভাবিত হয়েছিল, সচেতন হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে রায় না দিতে এবং তাদের বিচার দাবি করতে।’ ব্লগ লেখা কি আপনার পেশা বা কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটায়? প্রশ্নটির উত্তরে সোজাসাপ্টা তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই ঘটায়। ব্লগিং একটা নেশার মতো। প্রায়ই দেখা যায় ব্লগারদের মধ্যে একদল আরেক দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, এটা ঠিক নয়। অমি রহমান পিয়ালের স্বপ্ন একটাই তিনি প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে কাজ করতে চান, কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন এ দেশের মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে জানার অনেক আগ্রহ আছে, শুধু জানার সুযোগটা করে দিতে হবে। আর সেই ভাবনা থেকেই তিনি একটা ওয়েবসইট করতে চাচ্ছনে। এখানে বাংলাদেশ সব ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের উপর লেখা ও ছবি থাকবে। খুব সহজেই হয়তো কেউ এখানে জেনে নিতে পারবে পছন্দের জায়গা সম্পর্কে।’ ---- আ ই রি ন সু ল তা না লেখালেখির সামান্য অভ্যাস ছিল স্কুল-কলেজে থাকতেই। তারপর অনেকটা সময় বিরতি। তবে আগ্রহ মরে যায়নি। ব্লগের লেখার তাগিদে ব্লগিং শুরু করেননি আইরিন সুলতানা। তার ভাষ্যে, ‘ব্লগে কিছু একটা লেখা যাচ্ছে, এটাই বিস্ময় ছিল। তারপর পুরোনো আগ্রহ আর ব্লগে লেখার বিস্ময়, দুটোর সমন্বয়ে ব্লগে লিখছি। এটাকে তাগিদ বললে, কখনও কখনও নিজের কাছে চাপ মনে হতে পারে। সময়-ঘটনা-অনুভূতি মিলে লিখিয়ে নিচ্ছে এখনও। আসলে শুরুটা ছিল কিছু একটা লেখা যাবে এই জায়গায়, এমন একটা ঔত্সুক্য থেকে। সেই প্রাথমিক আমেজ কেটে যাওয়ার পর, ঘটনার প্রতিক্রিয়া প্রকাশে লিখি। প্রতিবাদ জানাতে লিখি। মত প্রকাশে লিখি। অমত জানাতে লিখি। প্রচুর হাসির উদ্রেক হলে লিখি। বিপরীতে বিরক্ত হলেও লিখি। কখনও স্রেফ সময় কাটাতে লিখি।’ কখনও লেখার কিছু না পেলে সেটাও লিখি। আপনার নিজের কোনো ব্লগ সাইট আছে কি, না থাকলে কোন কোন ব্লগ সাইটে আপনি ব্লগ লেখেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকে ব্যক্তিগত ব্লগ সাইট ব্যবহার করছেন অবশ্য। ওয়ার্ডপ্রেসে ফ্রি সাইট করছেন। এটা মনে হয়, আমিও করেছিলাম। কিন্তু ওটা সাইট ফিচার পরখ করে দেখতে। এ ছাড়া আলাদাভাবে মেনটেন করা হয় না। টেকনিক্যাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে একটা সাইট আছে। ওটাতে এখনও ভিজিটর আসে। তবে আমার দিক থেকে সাইটটায় মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না একদম। মূলত কমিউনিটি ব্লগগুলোতেই লিখি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগ, সামহোয়্যারইন ব্লগে বেশি নিয়মিত। ব্লগারদের মধ্যে দেখা যায় একদল আরেক দলকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে, এটা আপনার কাছে কতটুকু যৌক্তিক বলে মনে হয়? উত্তরে তিনি বলেন, ‘ব্লগে যুক্তি দিতে মতের বিরোধিতা করাটাই কাম্য। অশ্লীলভাবে কাউকে হেয় করাটা যথাযথ আচরণ নয়। যদিও এমনটা হয়ে থাকে ব্লগে। যা ব্লগের একটা দুর্বল দিক। ব্লগে দলাদলি করে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা দেখা গেছে অনেকবারই। যেহেতু ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম তাই, ছদ্মনামের অপব্যবহারের সুযোগ আছে ব্যাপক।সুস্থ ধারার সচেতন ব্লগাররা এক জোট হলেই এ ধরনের অসুস্থ ব্লগিং চর্চাকে প্রতিহত করা যায়।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে আইরিন বলেন, ‘ভবিষ্যত্ স্বপ্ন তো অনেক কিছু নিয়ে অনেক রকম। তবে যেহেতু ব্লগ নিয়ে কথা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলতে চাই। ব্লগ এক অর্থে এখন অনেক পরিণত। আবার ব্লগের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হচ্ছে এখন। ব্লগকে এক সময় ডায়েরি বলা হতো। এরপর বিকল্প গণমাধ্যম হয়েছে ব্লগ। তারপর একে সিটিজেন জার্নালিজম চর্চার ক্ষেত্রও বলা হচ্ছে। সেই অর্থে ব্লগ প্রতি মুহূর্তে এক নতুন মাত্রায় নতুনভাবে গড়ে উঠছে। আমার মতে, তথ্য-প্রযুক্তি আইনকে বিশদভাবে তৈরি করতে হবে। এর আওতায় সাইবার ল নিয়েও কাজ করতে হবে আমাদের। আমি ব্লগারদের এ বিষয়ে সোচ্চার দেখতে চাই। সাইবার ল তৈরিতে ব্লগাররা পরামর্শ দিক। ব্লগারদের পরামর্শ থেকে একটা যুগোপযোগী সাইবার ল তৈরি হোক, এটা আমার একটা বিশেষ প্রত্যাশা।’