জো ক স

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ১৮:২২

রাখার জায়গা নাই

তিনজন লোক। একজন আমেরিকার, একজন ইংল্যান্ডের আর একজন বাংলাদেশের। একসঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে। কে কাকে কীভাবে টেক্কা দেবে তা নিয়ে প্রত্যেকেই ব্যস্ত। হঠাত্ আমেরিকার লোকটা বলে উঠল, ‘জানো আমরা কী রকম বীর? কোনো বাঘ যদি আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলে তার দিকে শুধু বন্দুকটা তাক করলেই কেল্লাফতে! গুল্লির কোনো দরকার নাই!’

এই কথা শুনে ব্রিটিশ লোকটা বলল, ‘এ আর এমন কী! আমাদের এমন সাহস যে বন্দুক বেরই করতে হয় না। ঝোলার ভেতর থেকে বন্দুকের নলটা যদি কোনোভাবে বাঘ ব্রাদারের নজরে পড়েছে বা কোনোমতে টের পাইছে তাইলে সেইখানেই তার হার্ট অ্যাটাক!’

এই দুজনের কথা শুনে বাংলাদেশের লোকটা ভাবছে, আমার তো প্রেস্টিজের ব্যাপার। তাই সে চট করে বলল, ‘আরে ধুর মিয়ারা! তোমরা কোন জমানায় আছ? আমাদের তো বন্দুক-ফন্দুক কিচ্ছু লাগে না! ওই সব আমাদের সাহসের কাছে ফালতু জিনিস, ফাও প্যাঁচাল!’

কথা শুনে আমেরিকান আর ব্রিটিশ তো জব্বর টাসকি খেয়ে গেল। জানতে চাইল, ‘তাইলে তোমরা বাঘরে মারো ক্যামনে?’

বাংলাদেশি তখন বলল, ‘আরে মিয়া এইডা কোনো ব্যাপার? কোনো বাঘ আমাদের সামনে আইলে তার সামনে গিয়া আমরা শুধু কই, ঘর তো ছালে (চামড়ায়) ভর্তি, তোরটা রাখার জায়গা নাই রে!’

বাঘটা তখন লজ্জাতেই মারা যায়!

সংগ্রহে মুসা হোসাইন

জলঢাকা, নীরফামারী।

তিন বন্ধুর চাপাবাজি

প্রথম বন্ধু :আমার দাদা দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তীর ছুড়ে দিলে সেটার আগে লক্ষ্যে পৌঁছে যেতেন।

দ্বিতীয় বন্ধু :আমার দাদা আরও বড় দৌড়বিদ। গুলির পাশাপাশি ছুটতে পারতেন তিনি।

তৃতীয় বন্ধু :ধুর বেটা... আর আমার দাদা সময়ের আগে চলতে পরতেন। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। অফিস ছুটি হতো পাঁচটায়, কিন্তু উনি রোজ তিনটার সময়ই বাসায় চলে আসতেন।

সংগ্রহে মো. আরিফ হোসেন

বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

অভিনয় জীবনের স্মৃতিচারণ

দুই অভিনেতা তাদের অভিনয় জীবনের স্মৃতিচারণ করছেন ভক্তদের কাছে।

একজন :একবার এক দুঃখের দৃশ্যে এমন অভিনয় করেছিলাম যে, দর্শকরা কেঁদেকেটে বুক ভাসিয়ে দিয়েছিল।

অন্যজন :একবার এক দুঃখের দৃশ্যে এমন অভিনয়ের পর দর্শকরা আমি মরে গেছি ভেবে খাটিয়া নিয়া হাজির হয়েছিল। শুধু কি তাই? ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পর্যন্ত আমার বউকে পলিসি বাবদ সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দিয়েছিল।

সংগ্রহে মো. লিপটন ইসলাম

পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

কাজের চাপে

সেলফোনে স্ত্রী বলছে স্বামীকে :জানু কী করছ?

স্বামী :আর বোলো না সুইটহার্ট। কাজের ঠেলায় দম বেরনোর অবস্থা। তার ওপর বস ডাকছে জরুরি মিটিংয়ে, এদিকে কম্পিউটার ডিস্টার্ব দিতেছে, তিন মাসের রেকর্ড গায়েব। টেনশনে মগজ ফুটতেছে খইয়ের মতো। ওই দিকে ফরিদ আবার পরকীয়ায় জড়াইছে জানতে পাইরা ভাবি সুইসাইডের হুমকি দিছে... আচ্ছা বাদ দেও এইসব। তোমার খবর বল? কোথায় কী করতেছ?

স্ত্রী :আমি রেস্টুরেন্টে তোর পেছনের সিটে বসে বার্গার খাচ্ছি আর তোর সঙ্গে তোর কলিগনির খোশগল্প মোবাইলে ভিডিও করতেছি... চাপাবাজ, মিথ্যুক কোথাকার! আইজকা বাসায় আইলে তোরে দেখাইতাছি..

সংগ্রহে সুমন

স্বামীবাগ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

আইফেল টাওয়ার

দুই চাপাবাজের মধ্যে আলাপ হচ্ছে—

প্রথম চাপাবাজ :জানিস মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারটা কিনে ফেলি। দ্বিতীয় চাপাবাজ :অত সহজ না বন্ধু! ওটা আমি বেচলে তো...

সংগ্রহে ইমাম উদ্দিন

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

আড্ডায় চাপা

এক শিকারি আড্ডায় বসে বলছে, ‘জানিস, সেবার আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে আমি কতগুলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার মেরেছি?’

বন্ধুরা ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘আফ্রিকার জঙ্গলে তো রয়েল বেঙ্গল টাইগারই নেই! তুই মারবি কোথা থেকে?’

শিকারি :আহ! সব যদি আমি মেরেই ফেলি, তাহলে থাকবে কোথা থেকে!

সংগ্রহে :আরফাত হোসাইন চৌধুরী

পটিয়া, চট্টগ্রাম।

ব্যবসা

তিন চাপাবাজ গল্প করছে

প্রথম জন :আমার দাদার আমলে এত গরম পড়ত যে তাঁর সব মুরগি

সিদ্ধ ডিম পাড়ত।

দ্বিতীয় জন :আমার দাদার আমলে এতই গরম পড়ত যে তাঁর খামারে

গরু দুধ দিলে সেটা গরম থাকত আর জ্বাল দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।

তৃতীয় জন :আমার দাদার আমলে এত গরম পড়েছিল যে আমার দাদা একটা হোটেল দিয়ে অনেক বড়লোক হয়ে গিয়েছিল।

‘কী বেচত তোর দাদা?’

‘কেন, তোদের দাদাদের সিদ্ধ ডিম আর গরম দুধ।

সংগ্রহে নিদেল শরীফ

সদর, কক্সবাজার।

মুরগির হালচাল

তিন চাপাবাজ তাদের পোষা মুরগি নিয়ে গল্প করছেন।

প্রথম চাপাবাজ :জানিস, আমার মুরগিটা বিরিয়ানি ছাড়া কিছুই খায় না।

দ্বিতীয় চাপাবাজ :আমি ভাই শর্টকাট মেথডে চলি। আমার মুরগিরে সকালে বার্গার, বিকালে পিজা খাইতে দেই।

তৃতীয় চাপাবাজ :আরে ভাই শর্টকাটের কী দেখছস, আমি তো আমার মুরগিরে এটিএম কার্ড দিয়া দিছি, যা মুরগা, সারাদিন যা মন চায় চইরা-বইরা খা!

সংগ্রহে তানভীর আহম্মেদ

ঝিনাইদহ।

ভিনগ্রহে

দুই চাপাবাজ চাপাবাজি করছে।

প্রথম চাপাবাজ :জানিস, একবার চাঁদে গিয়েছিলাম। সেখানকার মানুষগুলো এত উন্নত, তারা এমন একটা বিল্ডিং বানিয়েছে যে, একটি বোকা ছেলে একদিন বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। ছেলেটির মাটিতে পড়তে সময় লেগেছে পাঁচ বছর।

দ্বিতীয় চাপাবাজ :দূর, এ আর এমন কী! সেবার আমি গিয়েছিলাম মঙ্গলগ্রহে, সেখানকার মানুষগুলো আরো উন্নত। তারা এমন একটি বিল্ডিং বানিয়েছে যে একবার একটু শিশু ওই বিল্ডিংটার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। মাটিতে পড়ার সময় দেখা শিশুটির মুখের দাড়ি, গোঁফ সাদা হয়ে গেছে।

সংগ্রহে কবির মোল্লা

মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী

উনি আমার আপনজন

আলোকচিত্র সাংবাদিক কেরামত মহাসড়ক ধরে ছুটে যাচ্ছিলেন। হঠাত্ দেখলেন, পথিমধ্যে এক জায়গায় ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটেছে। জানা গেল, হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। করিত্কর্মা কেরামত ভাবলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে চটজলদি কিছু ছবি না তুললেই নয়। ক্যামেরা হাতে এগিয়ে গেলেন তিনি। এদিকে লোকজন ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। কেরামত ছবি তুলবেন কি, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়াই দায়! ফন্দি আঁটলেন হরিপদ। উঁচু গলায় বলতে শুরু করলেন, ‘দেখি ভাই, আমাকে একটু সামনে যেতে দেন। যিনি মারা গেছেন, তিনি আমার অত্যন্ত আপনজন...একটু সামনে যেতে দিন।’

কেরামতকে জায়গা করে দিল লোকজন।

তিনি সামনে গিয়ে দেখলেন, দুটো ছাগল মরে পড়ে আছে!

সংগ্রহে কামরুল হাসান

সদর, ঠাকুরগাঁও।